মৌলভীবাজারে হাওরের পানি বৃদ্ধি, তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান

টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওড়াঞ্চলে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমার আশা ভেস্তে দিয়ে নতুন করে বাড়তে থাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা বোরো ধান। এতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওড় এলাকায় দ্রুতগতিতে পানি বাড়ছে। ফলে একের পর এক ফসলি জমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে। অনেক কৃষক কোমর সমান পানিতে নেমে, কেউবা নৌকায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
হাওড়ের বুকজুড়ে ছোট ছোট নৌকায় করে কৃষকরা ধান পাড়ে নিয়ে আসছেন। কেউ ভেজা ধান শুকাতে দিচ্ছেন, কেউ যন্ত্রে মাড়াই করছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এক ফসলি এই অঞ্চলে জীবিকার শেষ ভরসা বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন: কলাপাড়ায় নারী পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
বিজ্ঞাপন
কাউয়াদিঘির হাইল হাওড়ের কৃষক সাবির মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যা কিছু ধান বাঁচানো যাচ্ছে, সেগুলো কয়েক বস্তা করে বাড়িতে নিচ্ছি। আল্লাহ ভরসা।”
আরেক কৃষক মশাহিত মিয়া জানান, প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক পানিতে সব ফসল তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ঋণ শোধ করার কোনো উপায় এখন দেখছি না। প্রতিটি খামারে অনেক খরচ হয়েছে, এখন আমি চরম সংকটে আছি।”
কৃষকদের অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে এসে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেননি। বৃষ্টি না থামায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ধান সরিয়ে নিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমি পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ৯৪১ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কৃষকরা নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে ধান সংগ্রহ করছেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








