হাদি হত্যা: জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চায় ইনকিলাব মঞ্চ

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি চায়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হোক। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতোই ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত ও শুনানি বারবার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে তদন্তের অগ্রগতি জানানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর জাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ অবস্থায় তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ওসমান হাদির মৃত্যুর ৫৩ দিন পার হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি। বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে তার দাবি। আন্তর্জাতিক নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় গিয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেও ড. ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলোর সুস্পষ্ট অবস্থান নেই। যারা এসব বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান দেবে, জনগণকে তাদের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেই বহন করতে হবে।








