দেহব্যবসা ধামাচাপা দিতে মেহেরুননেছা পার্ক মালিকের টার্গেটে সাংবাদিক


Janobani

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১:৪৬ অপরাহ্ন, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২২


দেহব্যবসা ধামাচাপা দিতে মেহেরুননেছা পার্ক মালিকের টার্গেটে সাংবাদিক

‘ম্যাপ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এ.আর মালিক’র কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং তা পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ মামলা করা হবে’- এ কথা উল্লেখ করে দৈনিক জনবাণী পত্রিকার সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক ও জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বশির হোসেন খানসহ পাঁচ সাংবাদিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ম্যাপ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি রবিউল হোসেন সুকলালের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান (সুজন)।

কিন্তু লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখিত তথ্য ও দাবির সঙ্গে বাস্তবতা ও প্রকৃত ঘটনা সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দৈনিক জনবাণী একটি অনলাইন পত্রিকা। এ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সম্পাদক বাদে বাকি নোটিশপ্রাপ্তরা মেহেরুননেছা পার্কে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবেশ করে এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তথাকথিত অনাকাক্সিক্ষত, অবাঞ্চিত স্থানের সংগ্রহ করা বিতর্কিত কিছু ছবি কর্মকর্তাদ্বয়কে দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। সেই টাকা না দেওয়ায় বিতর্কিত ছবি অনলাইনে ভাইরাল করা হয়েছে। এতে করে পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী এ.আর মালিকের ১শ’ কোটি টাকা মূল্যের সম্মান ক্ষুন্ন ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে দৈনিক জনবাণীর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বশির হোসেন খান বলেন, ‍“প্রথমত জনবাণী শুধুমাত্র অনলাইন পত্রিকা নয়, এটি বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। আর নোটিশেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাংবাদিকেরা পার্কে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই প্রবেশ করেছে। সুতরাং, উল্লেখিত সাংবাদিকেরা কোন মনগড়া প্রতিবেদন করেনি। তারা সরেজমিনে গিয়ে স্বচোখে দেখে, উপস্থিত দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রমাণ হিসেবে সবকিছুর ভিডিও চিত্র ধারণ করে নিয়ে আসার পরেই সংবাদ প্রকাশ করেছে।”

তিনি বলেন, “সাংবাদিকেরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলা হলেও এর কোন প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। অথচ, বক্তব্য জানতে পার্কের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তারা স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে উৎকোচ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন সাংবাদিকদের। যদিও ওই সম্পাদকের সঙ্গে জনবাণীর কোন সাংবাদিক যোগাযোগ করেনি। মুঠোফোনে উভয় কর্মকর্তাই স্বীকার করে নেন যে তাদের পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকাদের অনৈতিক কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং নারী রেখে পতিতাবৃত্তি করানো হয়। আর পুরো বিষয়টা পার্কের স্বত্ত্বাধিকারী এ.আর মালিক জানেন বলেও তারা স্বীকার করে নেন।”

সাংবাদিক বশির আরও বলেন, “এআর মালিকের নিজস্ব কর্মচারীদের স্বীকার করা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় যদি তার সম্মান ক্ষুন্ন হয় ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন, সে দায়ভার তো তার কর্মচারীদের ওপরই পরে। যে কারণে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের জন্য অনৈতিক কাজের ব্যবসা ও সমাজ ধ্বংসকারী কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া অসম্ভব ব্যাপার।”

এসব বিষয়ে দৈনিক জনবাণীর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সত্য ও সঠিক তথ্য তুলে ধরা। ফলে যারা অনৈতিক ও অবৈধ কাজে যুক্ত তারা ক্ষুব্ধ হবে, ভয়-ভীতি দেখাবে, মামলায় ফাঁসাবে এটাই স্বাভাবিক।”

যে সংবাদের প্রেক্ষিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে, পাঠকদের জন্য সংবাদটি পুনরায় তুলে ধরা হল:



অনৈতিক ও অশ্লীল কর্মকান্ডের চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মেহেরুন শিশু পার্ক ও চিড়িয়াখানায়। পার্কে ঢুকলেই চোখে পড়ে গাছের আবডালে কিংবা ঝোপ-ঝাড়ের মধ্যে কপোত-কপোতির নোংরামি। শুধু ঝোপ-ঝাড়েই নয়, একেবারে কক্ষ বানিয়ে সেখানে চলছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের অবৈধ শারীরিক মেলামেশা ও দেহ ব্যবসা। প্রতিটি কক্ষে নারী রাখা হচ্ছে পতিতাবৃত্তির জন্য। অর্থের বিনিময়ে সেখানে বিক্রি হচ্ছে যৌন চাহিদা মেটানোর উপাদান বিভিন্ন বয়সের নারী। অবাধ মেলামেশার সুযোগ পেয়ে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা ওই শিশু পার্কে এখন শুধু বড়দের বিনোদন চলে। সরেজমিনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সার্বিক বিষয়গুলোর ভিডিও ধারণ শেষে পার্ক সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকারও করেছেন যে উপার্জনের জন্য তারা অনৈতিক কাজের জন্য পার্কের ভবন ব্যবহার করেন। স্থানীয় থানা এবং জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই অনৈতিক কাজ চলে বলেও স্বীকার করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আরিফ জনবাণীকে বলেন, “আমাদের সম্পর্কে যা বলে তা ডাহা মিথ্যা কথা। ওখানে অনৈতিক কাজ হয়, এমন অভিযোগ কেউ করেনি। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম জনবাণীকে বলেন, “পুলিশকে ম্যানেজ করার কথা মোটেও সত্য নয়।”

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান জনবাণীকে বলেন, “আমার কাছে এখনও কোন অভিযোগ আসেনি। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তথ্য অনুযায়ী, ম্যাপ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এ আর মালিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ওই পার্কটি নির্মাণ করা হয়। গ্রুপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এ আর মালিক তার মায়ের নামে এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য পার্কটি করেছেন দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুরের কলাবাড়ি এলাকায়। ম্যাপ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের আওতায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ আর মালিক বিত্তশালী ও দানশীল হিসেবে পরিচিত। অথচ তার নির্মিত পার্কে এমন অনৈতিক কর্মকা- স্থানীয় মানুষকে হতবাক করেছে।

চুয়াডাঙ্গা সাধারণ মানুষের ভাষ্য হচ্ছে- শুরুর দিকে পার্কটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে যাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। পরিবার নিয়ে পার্কে গেলে পড়তে হয় চরম লজ্জাকর পরিস্থিতিতে। এ আর মালিকের তো অর্থ সম্পদের অভাব নেই। তিনি তার মরহুম মায়ের নামে পার্ক করেছেন এলাকাবাসীর বিনোদনের জন্য। কিন্তু সেখানে বর্তমানে যা চলছে, এটি এখন চুয়াডাঙ্গার অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে ওই পার্কে গিয়ে। পার্কে দায়িত্বরত গার্ডরা সবকিছু দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকে। এতে করে যুবসমাজ ধ্বংস হওয়ার পথে। অতিদ্রুত পার্কটি অশ্লীলতামুক্ত করা অথবা পার্ক বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

সরেজমিনে তদন্তের পর অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা হয় পার্কের ম্যানেজার মোকলেসুর রহমান এবং এডমিন ম্যানেজার প্রিন্সের সঙ্গে। নিচে তাদের সঙ্গে কথপোকথন হুবহু তুলে ধরা হল:

ম্যানেজার মোকলেসুর রহমানের সঙ্গে কথপোকথনঃ

সাংবাদিক: হ্যালো আসসালামু আলাইকুম

মোকলেস: ওয়ালাইকুম আসসালাম

সাংবাদিক: মোকলেস ভাই আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে বলছি। আমি সাংবাদিক।

মোকলেস:জি!

সাংবাদিক: আপনি ইব্রাহিমপুর পার্কের ম্যানেজার, তাই তো?

মোকলেস: জি!

সাংবাদিক: আমাদের কাছে তথ্য আছে যে আপনার ওই পার্কের মধ্যে আপনারা দেহ ব্যবসা করান। এ বিষয়ে একটু বলেন। ওই যে পার্কের মাঝখানে যে বিল্ডিংটা আছে, ওখানে ১০/১২টা রুম আছে। ওখানে আপনাদের মহিলা আছে, প্রতিটা রুমে রুমে থাকে। তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করান। পুলিশ-প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাইকে ম্যানেজ করে।

মোকলেস: আপনারা যেটা জানেন, আসলে আপনারা আমরা কি করবো বলেন।

সাংবাদিক: আপনারা করান কি করান না, শুধু সেটা বলেন।

মোকলেস: না! না! না! এমনি ওই জুটি আসলে দুই-একটা...

সাংবাদিক: বাহিরের জুটি আসলে সেগুলোকে... তাই না

মোকলেস: হ্যাঁ! হ্যাঁ!

সাংবাদিক: আর ওই পেছনে যে গেটটা খোলা লাল গেট দিয়ে ঢুকতে হয়, আজকে কাজ করতে ছিল লেবাররা। ওটার মধ্যে যে রুমের মধ্যে মহিলাগুলো বসে থাকে ৪/৫ জন করে। আর প্রতিটা রুমে একটা ছেলে আর মহিলা ঢোকে, ওইগুলো?

মোকলেস: ওগুলো তো ওরা নাই। জুটি আসলে আমরা ই.. করি।

সাংবাদিক: আর ওই রুমের মধ্যে যে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়, ৮/১০জন করে মহিলা যে বসে আছে, তারা?

মোকলেস: এরকম তো নেই।

সাংবাদিক: আমি তো নিজে ভিডিও করে আসছি আজকে, সমস্ত ভিডিও আমারা কাছে আছে। টোটাল ডকুমেন্টস আছে। ওখানে কয়টা রুম, কয়টা কি, সমস্ত ভিডিও এবং কারা কারা কাজ করতেছে। ওখানে আপনার দুইজন লোক আছে এবং গেটে লোক আছে, সব তো ভিডিও করে নিয়ে আসলাম। ওইগুলো কি ভাই?

মোকলেস: আচ্ছা ঠিক আছে, দেখি, পরে কথা হবে।

সাংবাদিক: না! না! পরে কথা না। আমি তো নিউজটা করবো, এই বিষয়ে আপনার কোন মতামত আছে কিনা বলেন।

মোকলেস: নিউজ করলে আপনি আল আমিনের সাথে ই... করেন।

সাংবাদিক: আল আমিন কে?

মোকলেস: সাংবাদিক আল আমিন। ওই মাথাভাঙ্গার।

সাংবাদিক: মানে ওনার সাথে আপনার ম্যানেজ করা?

মোকলেস: ওনার সাথে যোগাযোগ করেন।

সাংবাদিক: ওনার সাথে যোগাযোগ করার কিছু নাই। আমি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থেকে বলছি।

মোকলেস: আপনারা যা-ই করেন। শোনেন আমাদের মালিকও হল ঢাকা এটিএন’র ই... বুঝেছেন। এখন আপনারা যদি করেন তাহলে মালিকের সাথে কথা বলতে হবে।

সাংবাদিক: এটিএন’র উনি কর্মকর্তা এ জন্য আপনারা ওখানে দেহ ব্যবসা করাবেন, এটা কি হয়?

মোকলেস: এতো বাংলাদেশের সব জায়গায় হচ্ছে।

সাংবাদিক: ও বাংলাদেশের সব জায়গায় হচ্ছে, তাই আপনাদের এখানেও হচ্ছে, তাই তো? এই গ্রামের মধ্যে একটা জায়গা, এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা যাচ্ছে। ইব্রাহিমপুর একটা মফস্বল জায়গা, সেখানে এই কাজগুলো করাচ্ছেন।

মোকলেস: যায় তো খারাপরা যায়, ভালোরা যায় নাকি?

সাংবাদিক: ও... খারাপরা যায় এই জন্য খারাপ কাজ করার সুযোগ করেছেন, তাই তো।

মোকলেস: এইগুলো সারাদেশেই হচ্ছে।

সাংবাদিক: মানে, সারাদেশে হচ্ছে তাই আপনারাও করছেন, তাই না? আপনারা এত সুনামধন্য, আপনাদের এত ট্রাস্ট, এতকিছু আছে। তারপরও আপনারা এই কাজ করে টাকা ইনকাম করেন? আপনার মালিক মা মৃত ব্যক্তি, তার নামে ওপর পার্ক করে সেখানে এই কাজগুলো হয়। আপনারা তো অনেক সুনামধন্য মানুষ। আপনাদের দিয়ে যদি এই কাজগুলো হয়। আপনার মালিক জানে এগুলো ভাই?

মোকলেস: সবই জানে। আপনারা এই জায়গায় এসে হাত দেন, অন্য জায়গায় তো হাত দেন না।

এডমিন ম্যানেজার প্রিন্সের সঙ্গে কথপোকথনঃ

প্রিন্স: কে বলছেন ভাই?

সাংবাদিক: জামাল হোসেন বলছি, কে বলছেন?

প্রিন্স: জীবননগর থেকে মেহেরুন শিশু পার্কের এডমিন ম্যানেজার।

সাংবাদিক: জি! ভাই বলেন।

প্রিন্স: ফোন দিছিলেন আমার ম্যানেজারের কাছে?

সাংবাদিক: হ্যাঁ! আপনার ম্যানেজারের সাথে কথা হইছে। আপনাদের ওখানে পার্কের অন্তরালে আপনারা যে দেহ ব্যবসা করান, এই বিষয়ে।
প্রিন্স: আমার কাছে একটু বলা যায়?

সাংবাদিক: আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল, সে অনুযায়ী ওখানে গিয়ে সমস্ত কিছু ভিডিও করে নিয়ে আসছি। আপনাদের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা না বলে তো নিউজটা করা যায় না। এই জন্য আপনাদের সাথে কথা বলেছি।

প্রিন্স: আপনি তো মনে হয় চেনেন পার্কটা কার? ড. এ আর মালিকের। বর্তমানের চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব উনি দান করেছেন।

সাংবাদিক: সব ঠিক আছে ভাই। আপনাদের মত এত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এআর মালিক অনেক সুনামধন্য মানুষ। উনি কি জানে ওনার মায়ের নামের পার্কের মধ্যে এই কাজগুলো হয়?

প্রিন্স: পার্কে হচ্ছে গিয়ে, আপনি তো সাংবাদিক আপনি জানেন ভাই, মাইন্ড কইরেন না। পার্ক তো শুধু চুয়াডাঙ্গাতেই নাই, অন্য অনেক জায়গাতেই আছে।

সাংবাদিক: আমি ভেতরে গিয়ে কোথায় কয়টা ছেলে মেয়ে আছে, কোথায় কি আছে, সব দেখেছি এবং ভিডিও করে নিয়ে এসেছি।

প্রিন্স: এখন একটা কথা বলি ভাই শোনেন। পার্কে আমাদের ইনকাম তো নাই, এখন খুব কম। জানেন চুয়াডাঙ্গা ছোট্ট একটা শহর। বিনোদন পার্কে তো সবাই বিনোদনের জন্য আসে। কেউ নামাজ পড়তে আসে না। এই পার্কে কেউ কাছে আসলে, একটু চুমু খাইলে সেগুলো আমরা প্রোটেস্ট করতাম, বের করে দিতাম। কারণ ফ্যামিলির লোকজনও আসে। তারপর কিন্তু পার্কটা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছিল। করোনার হাহাকালে পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তারপরে আমরা দেখলাম যে কি করা যায়। আমরা ভাবলাম পার্কটাকে তো মারা যাবে না। বিনোদন করতে হলে পুরোপুরি বিনোদন। কে কি করতেছে সেটা আমাদের দেখার দরকার নাই। আমরা যখন ছাড় দিলাম ভাই বুঝছেন, দেখলাম ঝোপে-ঝাড়ে...। পার্ক তো আমাদের লাইসেন্স করা পার্ক। ঝোপে-ঝাড়ে কি হচ্ছে এগুলো তো লেবার নিয়ে আমি ঠেকাতে পারবো না। ঝোপে-ঝাড়ে প্যাকেটসহ অনেক কিছু পড়েছিল। পুলিশ সুপার পর্যন্ত জানলো। তাদের কথা বললাম যে কি করতে পারি। এরপর সবকিছু পরিস্কার করালাম। এরপর আমরা রিসোর্ট করলাম যাতে ফ্যামিলি নিয়ে এসে থাকবে, বা কখনো একটা জুটি এসে থাকলো। এখন এসবে যে জুটি আসে, সেসব জুটির জন্য আমাদের কিছু ছাড় দিতে হয়।

সাংবাদিক: জুটিতো ঠিক আছে। কিন্তু কোনটা জুটি আর কারা জুটি না সেটা কিন্তু দেখলে বোঝা যায়।

প্রিন্স: এখন কি করবো বলেন ভাই। বলার কিছু নাই। পার্ক তো আমাকে চালাতে হবে, না হলে বন্ধ করে দিতে হবে।

সাংবাদিক: যাই বলেন, বিনোদনের জায়গাটা আপনার নষ্ট করে ফেলেছেন। আপনাদের মালিকের এত সুনাম, এত অর্থ সম্পদ।

প্রিন্স: বিনোদন বেশি কিছু দিতে হলে একটু ছাড় দিতে হয়। আপনি একটু আপনাদের উপর লেবেলে জেনে-শুনে-বুঝে এক কাজ করেন। পার্ক যদি চালাতে হয় ভাই, শুধু থানা আর চুয়াডাঙ্গা দিয়ে হয় না। আরও উপর থেকে ম্যানেজ করে চালাতে হয়।