Logo

দেশে ২০ দিনে এলো জ্বালানি তেলের ১২ জাহাজ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮
দেশে ২০ দিনে এলো জ্বালানি তেলের ১২ জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশে পড়লেও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ধরে রাখতে ধারাবাহিক আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। চলতি এপ্রিলের প্রথম ২০ দিনেই ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে দেশে ভিড়েছে ১২টি জাহাজ। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনে আসছে ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে অন্তত আগামী দুই মাস বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে ৮টি জাহাজে ২ লাখ ৭৪ হাজার টন ডিজেল এসেছে। এছাড়া ২টি জাহাজে ৫৩ হাজার টন অকটেন, একটি করে জাহাজে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস তেল এসেছে। ভারত থেকে পাইপলাইনে যোগ হয়েছে আরও ১২ হাজার টন ডিজেল। এর ফলে গত রোববার থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর চাপ কিছুটা কমে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়মিত তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে এবং এ মাসে কোনো সংকট নেই। অকটেনের মজুত ইতোমধ্যে মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি হয়েছে। মে ও জুনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। চলতি মাসে এর চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার টনের কিছু বেশি, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলা সম্ভব। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যা যুক্ত হলে মজুত আরও বাড়বে।

১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ টনের বেশি, দৈনিক গড় ১১ হাজার টনের কিছু বেশি—যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। একইভাবে অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস তেলের চাহিদাও আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে জেট ফুয়েলের ব্যবহার বেড়েছে। বর্তমানে এর মজুত প্রায় ২৩ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। বিমান চলাচল বাড়ায় এই জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুতও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে চলতি সপ্তাহেই আরও অন্তত পাঁচটি জাহাজে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে মাঠপর্যায়ে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। আগের ঘাটতির প্রভাব কাটতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনেক ফিলিং স্টেশনে এখনও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ মাসে তেলের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD