দিল্লিতে দিনভর উত্তেজনা, তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। এ ঘটনায় দলটির প্রধান অভিজিৎ দ্বীপকেসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। তবে সন্ধ্যার পর আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে শুরু করে পুলিশ। সর্বশেষ তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিজিৎ ও দলটির শীর্ষ তিন নেতাকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে ককরোচ পার্টি। তাদের অবস্থানও জানা যাচ্ছে না। এ ছাড়া সকালে আটক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
ককরোচ পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আগের রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল ও আজ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। দিল্লিতে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তরমন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য সেখানকার মেট্রো সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দিনের শুরুতে উত্তেজনা ছড়ায় অভিজিৎ মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছানোর পর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি অবতরণের পর পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তরমন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে যাওয়ার পথে অনেককে আটক করে পুলিশ ভ্যান ও বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে সমর্থন জানানোর কারণে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদনে সর্বশেষ তথ্য হিসেবে বলা হয়েছে, কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনো পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
বিবিসির এক সাংবাদিক যন্তরমন্তর থেকে সরাসরি প্রতিবেদনে জানান, সেখানে কোনো বিক্ষোভকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এলাকায় শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং লোহার শক্তিশালী ব্যারিকেড বসানো হয়। ফলে ব্যারিকেড পেরিয়ে বিক্ষোভকারীদের সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতিতে ককরোচ পার্টির পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়, পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই যেন তাঁরা অবস্থান নেন। দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইসহ ভারতের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেসব জায়গা থেকেও বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনার মধ্যেই খবর আসে, অভিজিতের দাদি মারা গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে দ্রুত এ খবর জানানো হয়েছে।
তবে ককরোচ পার্টির দাবি, প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে অভিজিতের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে মুক্তি দিয়ে মৃত দাদির কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন দেশটির তরুণ বিক্ষোভকারীরা। এ দাবিতে বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের পর তাঁরা যন্তরমন্তরে সমবেত হওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করায় তাঁকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ পার্টি।
দলটির প্রধান অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ তিন নেতা আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন অজিঙ্কা সিন্ধে। আটকের আগে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ আন্দোলনের দায়িত্বে অজিঙ্কার নাম ঘোষণা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং তরুণ বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে আগামী সোমবার বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
বিজ্ঞাপন
প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত এক যুগে মোদি ও তাঁর দল ভারতের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনভর রাজধানীতে উত্তেজনা চললেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মোদিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে জ্ঞানেশ কুমার ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।








