ফিলিস্তিনের সমর্থনে ৬০ দেশে ৩২৫ কর্মসূচি, অংশ নিল ২০০ সংগঠন

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের ৬০টি দেশে ৩২৫টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ২০০টিরও বেশি সংগঠন। বিক্ষোভ, পদযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।
বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ফিলিস্তিনের জন্য বৈশ্বিক জোটের উদ্যোগে এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও সানেদের সহযোগিতায় কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ইউরোপের ২৪টি দেশে সবচেয়ে বেশি ১৭৬টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এর মধ্যে ইতালিতে ৬৪টি এবং স্পেনে ৩৮টি কর্মসূচি ছিল। এ ছাড়া রোমের কলোসিয়াম, বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এবং ব্রাসেলসে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওশেনিয়ায় ৪৫টি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আটটি দেশে ৩৬টি এবং আফ্রিকার ১০টি দেশে ৩২টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে পার্লামেন্ট থেকে সিভিক স্কয়ার পর্যন্ত সংহতি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মুইর স্ট্রিট মসজিদ থেকে ওয়েস্টার্ন কেপ প্রাদেশিক পার্লামেন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা করেন সংহতি প্রকাশকারীরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাতেও ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেন অনেকে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের পাশাপাশি গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নানা আয়োজন করা হয়। ইতালির আলেসান্দ্রিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে দীর্ঘ কাফনের কাপড় নিয়ে শোকযাত্রা বের করা হয়। তানজানিয়ার দারুস সালামে মঞ্চস্থ হয় ‘মাশাহিদি ওয়া গাজা’ নাটক। গ্রিসের এথেন্সে দুই দিনব্যাপী ফিলিস্তিন সংহতি উৎসব এবং ইরানের তেহরানে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এসব কর্মসূচি থেকে ইসরায়েলের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং যুদ্ধাপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান আয়োজকেরা। তাদের মতে, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করলেই চলবে না; ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সরকারগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকেরা আরও জানান, ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মুক্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংহতি আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর








