Logo

কোনো মুচলেকায় সই করিনি, আবারও আন্দোলনে নামব: অভিজিৎ দিপকে

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:৩২
কোনো মুচলেকায় সই করিনি, আবারও আন্দোলনে নামব: অভিজিৎ দিপকে
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে। তবে এক বছর শান্তি ভঙ্গ করবেন না—এমন শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। দিপকের দাবি, আন্দোলন করতে পারবেন না—এমন কোনো মুচলেকায় তিনি স্বাক্ষর করেননি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিপকে আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারব না, এমন কোনো মুচলেকায় সই করিনি। আমরা আবারও রাজপথে নামব।”

এর আগে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকায় সই করার পর রবিবার সকালে দিল্লির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দেন।

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিতে শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছান দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী হাকিম আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শনিবার গভীর রাতে মুক্তি পান মোদি সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও। সিজেপির বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে দিল্লিতে আসার পর তাঁকেও আটক করেছিল পুলিশ। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির তিন নেতাকে আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের দাবি, তাঁরা আইনসম্মত নির্দেশ অমান্য করেছিলেন এবং সহিংসতা ঘটিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁদের আটক করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক বছর শান্তি বজায় রাখা ও ভালো আচরণের নিশ্চয়তা হিসেবে তাঁদের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির নেতারা মুক্তি পেলেও বিক্ষোভ ঠেকাতে রবিবারও দিল্লিজুড়ে কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে, রাজধানীতে প্রবেশের বিভিন্ন পথে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এ ছাড়া ৩০টি সংযোগস্থলে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীদের দাবি, এক দিনে আনুমানিক সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সহআহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লির পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান, সরকারের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ট্রেন ও মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তাঁরা।

সৌরভ দাস বলেন, সরকার রাজ্য প্রশাসনকে নিজেদের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ করতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়ার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারত।

বিজ্ঞাপন

নেতাদের মুক্তির শর্ত প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, “তারা আমাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিল। তারা বলেছে যে এক বছর ধরে কোনোভাবেই শান্তিভঙ্গ করা যাবে না। অথচ শান্তিভঙ্গ তো করেছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার।”

দিল্লির বাইরে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আন্দোলন চলছে... শুধু দিল্লিতেই নয়, সারা দেশেই এই আন্দোলন চলবে।”

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির পর সিজেপির নেতাদের পুরোনো একটি মামলায় নতুন করে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে এক নারীর করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ নোটিস দেওয়া হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, তাঁর ছবি বিকৃত করে সিজেপি তা অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর আগে ওই নারীর আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট সিজেপির নেতাদের নোটিস পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশকেও নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD