যন্তর মন্তরে ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ, সিজেপির ৩ নেতা গ্রেফতার

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিতর্ক এবং বিক্ষোভস্থল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘটনায় সিজেপির তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হলো।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশের পর ওই তিন নেতা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে মান্দির মার্গের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা ছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দিল্লি পুলিশের দাবি, এর আগে একই ধরনের বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর তাদের কয়েকজন ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। পাশাপাশি এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গের ঘটনায় জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার অনধিকার প্রবেশ ও মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাদের পুনরাবৃত্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন
সিজেপির আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্ডেকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটক রাখা হয়েছে।
তিনি লেখেন, তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, মুচলেকা ভঙ্গ ও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত আটক নেতাদের তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। রাত ৩টার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আনা হয়।
এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, সকালে তাদের এসসিএম আদালতে হাজির করা হবে। তাদের তিহার কারাগারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
রত্না সিংয়ের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপকে বেআইনি বলে মনে করলেও গ্রেফতার হওয়া নেতাদের মনোবল অটুট রয়েছে।
যন্তর মন্তর থেকে বিক্ষোভ সরানোর সিদ্ধান্তে আপত্তি
রবিবার (১১ অক্টোবর) দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই আদেশে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলটির বক্তব্য, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচির দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।
সূত্র: এনডিটিভি








