Logo

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি হুতিদের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:০৮
সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ফের হামলার হুমকি হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর বুধবার নতুন করে এই হুমকি দেয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের একটি আরামকো শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। তবে এসব হামলা কখন চালানো হয়েছে, তা জানায়নি তারা।

এক বিবৃতিতে হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলেও ঘোষণা করেছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে, বুধবার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এ সময় সৌদি রাজধানীতে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এর আগে সম্ভাব্য আকাশপথের হামলার আশঙ্কায় রিয়াদে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে বিকট শব্দের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার আরামকোর সদর দপ্তরে হামলায় সীমিত পরিসরে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত হননি। তবে কোম্পানির একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সদর দপ্তর কমপ্লেক্সের একটি অফিস ভবনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটির ওপরের ৩টি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর এই কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক তেল উত্তোলন স্থাপনা, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং রপ্তানি টার্মিনালের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়।

গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে। শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক দশকে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। সৌদি আরবগামী ফ্লাইটও বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। এর আগে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করেছিল। দীর্ঘ সংঘাতের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। সেই সমঝোতা পরবর্তী সময়ে সংঘাত কমিয়ে ভঙ্গুর শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল।

তবে গত মাসে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিও আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদি আরবের সমর্থন দেওয়ার জবাব হিসেবেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি সেই উদ্যোগের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD