রাহুল-অভিজিতের ঐক্যের ইঙ্গিত, নতুন চাপে মোদী সরকার

ভারতে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সাম্প্রতিক অবস্থান ঘিরে। দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে গিয়ে সিজেপির দুই নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের সমর্থনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য নতুন করে দুই পক্ষের আন্দোলনে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের জন্য তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়।
১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোটের ব্যানার আলাদা হলেও তাদের দাবি অভিন্ন। সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা আন্দোলন করছেন।
জন্তর মন্তরকে ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই স্থান আবার জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিজ্ঞাপন
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে। দলটির দুই নেতা অভিষেক রাঙ্কা ও সৌরভ দাশের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাহুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কংগ্রেসের অবস্থানে কি পরিবর্তন আসছে?
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যকে সিজেপির আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসের অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের প্রতিবাদ কর্মসূচি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে জন্তর মন্তরে টানা ১৭ দিন আন্দোলন করে সিজেপি। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি আলোচনায় এলেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সরাসরি তাদের আন্দোলনে অংশ নেননি।
কংগ্রেসের অবস্থান ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভোটার তালিকায় অনিয়মের মতো বিষয় নিয়ে তারা আগে থেকেই আন্দোলন করছে। ফলে এসব ইস্যুতে নিজেদের নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
জুলাইয়ের আন্দোলনে রাহুল গান্ধী জন্তর মন্তরে যাননি। তিনি আলাদাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের বাইরেও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
অক্টোবরেও দুই পক্ষের কর্মসূচিতে একই ধরনের দূরত্ব দেখা যায়। ১০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি বিক্ষোভের ডাক দিলেও কংগ্রেস তাতে অংশ নেয়নি। এর দুই দিন পর, ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতারা পৃথক কর্মসূচিতে মিছিল করেন।
তবে সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের পর রাহুলের প্রকাশ্য সমর্থন দুই পক্ষের আন্দোলনে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
‘আর আলাদা নয়, আন্দোলন একটাই’
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, আর আলাদা কোনো আন্দোলন নয়। আন্দোলন একটাই, আর তার লক্ষ্য ভারতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
কংগ্রেসের এক নেতার বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাহুলের দেওয়া পোস্টকে তার আগের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা উচিত।
ওই নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়ে রাহুলের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী নেতাদের একসঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে একই দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ গ্রেপ্তার হলে তার পাশে দাঁড়ানোও এই অবস্থানের অংশ।
বিজ্ঞাপন
সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের নিন্দা বিরোধীদের
রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতাও সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাশ ও অভিষেক রাঙ্কার গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। জন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেন। নিজের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে ভারতীয়দের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, জন্তর মন্তর জনগণের জায়গা এবং এটি দিল্লির সবচেয়ে পরিচিত প্রতিবাদস্থলগুলোর একটি।
সরকার জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিরোধী নেতারা জায়গাটি আবার আন্দোলনকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনের নেতৃত্বে নতুন সমীকরণের আভাস
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর সক্রিয় ভূমিকা সামনে এসেছে। জুলাইয়ে সিজেপির আন্দোলন আলোচনায় এলেও সে সময় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
পরবর্তী সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে আপত্তি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুল বিরোধীদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সিজেপি নেতাদের সমর্থনে তার সর্বশেষ বক্তব্য একই দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকে আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে আন্দোলনের ঘোষণা দেননি। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস








