৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে অনুভূত এই ভূকম্পনে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কারণে সুনামি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রও ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এর কেন্দ্র ছিল ১৩০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে সবুজ সতর্কতা জারি করেছে ইউএসজিএস। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভব করেছেন। অন্যদিকে, আরও প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ হালকা কম্পনের মুখোমুখি হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কামচাটকা অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা এমন ভবনে বসবাস করেন, যেগুলো ভূমিকম্পের কম্পন সহ্য করার উপযোগী করে নির্মিত। তবে মাটির ব্লক ও সাধারণ ইট দিয়ে তৈরি কিছু ভবন তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পের প্রভাবে মাটি তরল হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় মাটির ভার বহন করার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে সম্ভাব্য এ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বেশির ভাগেই জনবসতি খুবই কম। কিছু এলাকায় মানুষের বসবাস প্রায় নেই বললেই চলে।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কাও কম বলে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থাটি। সম্ভাব্য ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন এলাকাও সীমিত বলে প্রাথমিক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল কামচাটকা অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। এর মধ্যে ওজেরনোভস্কি শহর থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ভিলিউচিনস্ক থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পেত্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি থেকে ১৫১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র। এ ছাড়া এলিজোভো শহর থেকে ১৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ক্লিউচি শহর থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান ছিল।
ভূমিকম্পের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে সুনামি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি নিয়ে উদ্বেগের কারণ দেখছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: ওয়াচার্স নিউজ








