আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রত্যাশা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ১ অক্টোবর যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পরিবার ও সমাজে তাঁদের অবদানকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার লক্ষ্যেই দিনটির গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রতি বছর ১ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে প্রবীণদের কল্যাণ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এর ফলে সমাজে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। তবে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, একান্নবর্তী পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় অনেক প্রবীণই জীবনের শেষ পর্যায়ে একাকিত্ব, অবহেলা ও অনিরাপত্তার মুখোমুখি হচ্ছেন। বয়সজনিত বিভিন্ন জটিলতার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজন হয় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা, পারিবারিক সহযোগিতা এবং মানসিক সমর্থনের। তাই প্রবীণদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, বার্ধক্যকালীন ভাতা ও আইনি সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশেও জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন প্রবীণ। তাঁদের নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব প্রবীণদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে মূল্যায়ন করা এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো। পরিবারে প্রবীণদের প্রতি যত্ন ও সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তাঁদের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; বরং তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার উৎস—এই মূল্যবোধ সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত হোক, আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে সেটিই প্রত্যাশা।








