Logo

ল্যাপটপে কাজের সময় ঘাড়-পিঠে ব্যথা, এড়িয়ে চলুন যেসব ভুল

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫
ল্যাপটপে কাজের সময় ঘাড়-পিঠে ব্যথা, এড়িয়ে চলুন যেসব ভুল
ছবি: সংগৃহীত

ল্যাপটপে কাজ করতে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাড়ে টান ধরছে? একটানা কাজ শেষে চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে পিঠে ব্যথা অনুভব করছেন? অনেকেই মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় বা শারীরিক সমস্যার কারণে এমনটা হয়। কিন্তু বাস্তবে কমবয়সিদের মধ্যেও ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের ব্যথার সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পড়াশোনা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে দিনের বড় একটি অংশ কাটছে স্ক্রিনের সামনে। কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই বসার সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখার বিষয়টি উপেক্ষা করেন।

কেউ টেবিলের ওপর ল্যাপটপ রেখে মাথা নিচু করে কাজ করেন, আবার কেউ চেয়ারে পিঠ বাঁকিয়ে বা শরীর একদিকে কাত করে বসে থাকেন। প্রথম দিকে অস্বস্তি সামান্য মনে হলেও দিনের পর দিন এমন অভ্যাস ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ব্যথা শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে কাজের পরিবেশ ও বসার অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

ল্যাপটপ রাখার অবস্থান ঠিক রাখুন

বিজ্ঞাপন

ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ক্রিনের অবস্থান। টেবিলের ওপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে অনেক সময় পর্দার দিকে তাকানোর জন্য ঘাড় নিচু করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ এমন অবস্থায় থাকলে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ সমস্যা এড়াতে স্ক্রিনের ওপরের অংশ চোখের সমতলে রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে ল্যাপটপ উঁচু করে রাখলে টাইপ করতে অসুবিধা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা সুবিধাজনক। স্ক্রিন এমন দূরত্বে রাখুন, যাতে সামনে ঝুঁকে না পড়েই লেখা পড়তে পারেন।

চেয়ারে বসার সঠিক নিয়ম মেনে চলুন

বিজ্ঞাপন

কাজের সময় পিঠ বাঁকিয়ে বসা কিংবা শরীর একদিকে কাত করে রাখা ঘাড় ও পিঠের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই চেয়ারে বসার সময় পিঠকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখুন। প্রয়োজনে কোমরের পেছনে ছোট কুশন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে পিঠের নিচের অংশ যথেষ্ট সমর্থন পায়।

দুই পায়ের পাতা মেঝেতে সমানভাবে রাখার চেষ্টা করুন। হাঁটু ও নিতম্ব প্রায় একই উচ্চতায় থাকলে বসতে সুবিধা হয়। পা মেঝে পর্যন্ত না পৌঁছালে ফুটরেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

কাঁধ যেন অযথা উঁচু হয়ে না থাকে এবং কনুই শরীরের কাছাকাছি রেখে কিবোর্ডে টাইপ করুন। তবে সোজা হয়ে বসার অর্থ দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে স্থির থাকা নয়। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করুন।

বিজ্ঞাপন

একটানা বসে থাকার অভ্যাস বাদ দিন

কাজের চাপ যতই থাকুক, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকা ঠিক নয়। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

তাই কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নিন। প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অন্তর কিছুক্ষণের জন্য উঠে দাঁড়ান, একটু হাঁটাহাঁটি করুন কিংবা শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করুন।

বিজ্ঞাপন

চাইলে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে ঘোরাতে পারেন, কাঁধ আলতোভাবে ঘোরাতে পারেন এবং হাত-পা প্রসারিত করতে পারেন। তবে কোনো ব্যায়াম বা স্ট্রেচিংয়ে ব্যথা বাড়লে জোর করবেন না।

চোখের যত্নেও নজর দিন

স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করার সময় শুধু ঘাড় বা পিঠ নয়, চোখেও চাপ পড়তে পারে। স্ক্রিন খুব কাছে থাকলে কিংবা লেখা ছোট হলে অনেকে অজান্তেই সামনে ঝুঁকে পড়েন। এতে ঘাড়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তাই প্রয়োজন অনুযায়ী লেখার আকার বাড়িয়ে নিন। দীর্ঘক্ষণ কাজ করার সময় মাঝেমধ্যে স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। ঘরের আলো এমন রাখুন, যাতে স্ক্রিনে অতিরিক্ত ঝলক না পড়ে এবং চোখ কুঁচকে তাকাতে না হয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বসার ভঙ্গি পরিবর্তন, নিয়মিত বিরতি এবং হালকা নড়াচড়ার পরও ঘাড় ও পিঠের ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ব্যথা ক্রমশ বাড়লে, ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হলে কিংবা হাতের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

বিজ্ঞাপন

ঘাড় বা হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন করা কিংবা হাতের শক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। আর হঠাৎ তীব্র ব্যথা, হাঁটাচলায় সমস্যা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

ল্যাপটপে কাজের সময় ঘাড় ও পিঠের অস্বস্তি এড়াতে সঠিকভাবে বসা, স্ক্রিনের অবস্থান ঠিক রাখা এবং নিয়মিত বিরতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তন অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD