Logo

বিশ্ব ব্রা খুলে রাখার দিন আজ

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৬
বিশ্ব ব্রা খুলে রাখার দিন আজ
ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবর মাস বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসার সচেতনতার মাস হিসেবে পরিচিত। এ মাসের ১৩ অক্টোবর পালিত হয় ‘নো ব্রা ডে’। দিনটি ঘিরে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, রোগটির লক্ষণ জানা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

অক্টোবর মাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতার মাস। আর এই মাসের ১৩ অক্টোবর “নো ব্রা ডে”। এই একটা দিন অন্তত ব্রা খুলে নিজের স্তন দুটোকে পরীক্ষা করুন। এই ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সাধারণত ৫০-৭০ বছর বয়সী মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার অধিক ঝুঁকি থাকে।

স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা কিংবা লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অবহেলা করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

‘নো ব্রা ডে’ কেন পালিত হয়?

বিজ্ঞাপন

‘নো ব্রা ডে’ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। দিনটির অর্থ কি ব্রা না পরে বাইরে যাওয়া কিংবা প্রকাশ্যে কোনো আয়োজন করা? আসলে দিনটি পালনের মূল আলোচ্য বিষয় স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। ব্রা পরা বা না পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়; এ দিনটির সঙ্গে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে তথ্য জানা এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ষাটের দশকে নারীবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন ধারায় পোশাক, প্রসাধনী ও সৌন্দর্যচর্চার সামাজিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। নারীরা কেন নির্দিষ্ট পোশাক পরবেন, কেন উচ্চ হিল ব্যবহার করবেন কিংবা কেন পুরুষের পছন্দ অনুযায়ী নিজেদের সাজাবেন—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব প্রশ্নের কেন্দ্রে ছিল নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার।

উচ্চ হিলের জুতা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। একইভাবে, স্তন বড় করার অস্ত্রোপচার বা ইমপ্ল্যান্ট নিয়েও নানা ধরনের ঝুঁকি ও জটিলতার বিষয় সামনে এসেছে। তাই সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে আরও যেসব প্রশ্ন জরুরি

নারীর প্রজননস্বাস্থ্য ও নিজের শরীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে নারীদের ক্ষেত্রে লাইগেশন এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ভ্যাসেক্টমি ব্যবহৃত হয়। এসব পদ্ধতি গ্রহণের আগে সুবিধা, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

সন্তান ধারণে সমস্যার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষ—উভয়েরই ভূমিকা থাকতে পারে। পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণগত মানের সমস্যা এবং নারীর ডিম্বাণু উৎপাদন বা প্রজননস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিলতা এর কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বয়সের আগেই ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজননসহায়ক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে উপযুক্ত হলে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

অতীতে সন্তান ধারণে সমস্যা হলে অনেক ক্ষেত্রে নারীকেই এককভাবে দায়ী করা হতো। অথচ এর কারণ নারী বা পুরুষ—যেকোনো পক্ষের হতে পারে, আবার উভয়ের সমস্যাও থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে কুসংস্কার বা সামাজিক দোষারোপের পরিবর্তে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্তন ক্যানসারের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

বিজ্ঞাপন

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে জানা থাকলে দ্রুত সতর্ক হওয়া সম্ভব। স্তনে বা বগলের নিচে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্তন ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণগুলো হলো—

১. স্তনে বা বগলের নিচে চাকা কিংবা পিণ্ডের মতো কিছু অনুভব হওয়া।

বিজ্ঞাপন

২. স্তনের ত্বকের রং বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দেওয়া।

৩. স্তনের আকার বা আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসা।

৪. স্তনের ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কমলার খোসার মতো দেখানো।

বিজ্ঞাপন

৫. স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।

৬. স্তনের বোঁটা বা তার চারপাশে ফুসকুড়ি কিংবা ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া।

৭. স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক তরল, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া।

বিজ্ঞাপন

৮. স্তনে স্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথা অনুভব করা।

এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে স্তন ক্যানসার হয়েছে, তা নয়। তবে কোনো পরিবর্তন নতুন করে দেখা দিলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নিয়মিত স্তন পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিজ্ঞাপন

স্তনে দেখা দেওয়া সব পিণ্ড বা টিউমার ক্যানসার নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো নিরীহ হতে পারে। তবে পরীক্ষা ছাড়া কোনো পিণ্ডের প্রকৃতি নিশ্চিতভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তাই স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিজে স্তন পরীক্ষা করার মাধ্যমে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি চিকিৎসকের পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় পদ্ধতির বিকল্প নয়। সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

‘নো ব্রা ডে’ পালনের উদ্দেশ্য শুধু পোশাক নিয়ে আলোচনা নয়; বরং নারীদের স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন করা, শরীরের পরিবর্তন চিনতে শেখানো এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘নো ব্রা ডে’ ২০১১ সালে জুলাই মাসে পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের ১৩ তারিখে দিনটি পালনের প্রচলন তৈরি হয়। বর্তমানে দিনটি স্তন ক্যানসার সচেতনতা নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ হিসেবে পরিচিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD