আজ পাস্তা দিবস

আজ ১৭ অক্টোবর, পাস্তা দিবস। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই খাবার ইতালির ঐতিহ্যবাহী রান্নার অংশ হলেও সময়ের সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে। নানা আকার, স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতির কারণে পাস্তা এখন রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ঘরের রান্নাঘরেও বেশ পরিচিত। পাস্তার প্রতি ভালোবাসা উদযাপনে অক্টোবর মাসজুড়ে অনেক জায়গায় পালন করা হয় পাস্তা মাস।
বিজ্ঞাপন
পাস্তা মূলত গমের ময়দা, পানি বা ডিম দিয়ে তৈরি এক ধরনের খাবার, যা দেখতে ও গঠনে বিভিন্ন ধরনের নুডলসের মতো। ইতিহাসে ১১৫৪ সালে সিসিলিতে পাস্তার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইংরেজি ভাষায় ‘পাস্তা’ শব্দটির ব্যবহার প্রথম নথিভুক্ত হয় ১৮৭৪ সালে।
পাস্তা তৈরির জন্য প্রথমে ময়দা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে মণ্ড তৈরি করা হয়। পরে সেই মণ্ড বেলে বা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। পাস্তা তাজা অবস্থায় রান্না করা যায়, আবার শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করেও ব্যবহার করা যায়।
পাস্তার ধরন ও নামের বৈচিত্র্য
বিজ্ঞাপন
পাস্তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর অসংখ্য আকার ও বৈচিত্র্য। কোনোটি লম্বা ও সরু, কোনোটি ফিতার মতো চওড়া, আবার কোনোটি ছোট, বাঁকানো কিংবা নলাকার। পাস্তার গঠন অনুযায়ী রান্নার পদ্ধতি ও পরিবেশনের ধরনও বদলে যায়।
আগে অনেক পরিবারে হাতে পাস্তা তৈরি করা হতো। বর্তমানে শিল্পকারখানায় আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের পাস্তা উৎপাদিত হচ্ছে। ছোট পাস্তা তৈরির যন্ত্র ব্যবহার করে বাড়িতেও তৈরি করা সম্ভব।
ওরেত্তা জানিনি দে ভিটার লেখা ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব পাস্তা’ বইয়ে ৩১০ ধরনের পাস্তার উল্লেখ রয়েছে। এসব পাস্তার জন্য ব্যবহৃত হয় ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি নাম। ইতালির বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে একই ধরনের পাস্তার নামেও ভিন্নতা দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে, ক্যাভাতেল্লি নামের পাস্তা ২৮টি আলাদা নামে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
কোন পাস্তার সঙ্গে কোন সস মানানসই?
পাস্তার স্বাদ বাড়াতে সসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব ধরনের সস সব পাস্তার সঙ্গে সমানভাবে মানায় না। পাস্তার আকার, পুরুত্ব ও গঠন বিবেচনা করে সস নির্বাচন করলে খাবারের স্বাদ আরও ভালো হয়।
লিঙ্গুইনির মতো লম্বা ও সরু পাস্তার সঙ্গে হালকা সস ভালো মানায়। অন্যদিকে, ফেটুচিনি তুলনামূলক চওড়া হওয়ায় এর সঙ্গে আলফ্রেডোর মতো ঘন ও ক্রিমযুক্ত সস পরিবেশন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পাস্তা শুধু প্রধান খাবার হিসেবেই নয়, গরম বা ঠান্ডা সাইড ডিশ হিসেবেও খাওয়া হয়। সালাদ, বিভিন্ন ধরনের সস এবং অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় নানা স্বাদের পাস্তা। এমনকি কিছু মিষ্টি খাবার তৈরিতেও পাস্তা ব্যবহার করা হয়।
পাস্তা রান্নায় যে কৌশলগুলো কাজে দেবে
পাস্তা রান্না সহজ হলেও কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে এর স্বাদ ও গঠন ভালো রাখা যায়।
বিজ্ঞাপন
প্রথমে একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে তাতে লবণ মেশাতে হবে। পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে পাস্তা দিতে হবে। রান্নার সময় মাঝে মাঝে নেড়ে দিলে পাস্তা একটির সঙ্গে অন্যটি লেগে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
পাস্তা ছেঁকে ফেলার আগে কিছুটা রান্নার পানি আলাদা করে রাখা যেতে পারে। পরে সস বেশি ঘন হয়ে গেলে সেই পানি মিশিয়ে সসের গঠন ঠিক করা যায়। এতে সস পাস্তার সঙ্গে ভালোভাবে মিশতেও সাহায্য করে।
রান্না করা পাস্তা হিমায়িত করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত সেদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ ঠান্ডা করে সংরক্ষণ ও পরে গরম করার সময় পাস্তা আরও নরম হয়ে যেতে পারে। বেশির ভাগ সসের সঙ্গে পাস্তা হিমায়িত করা গেলেও আলফ্রেডোর মতো ক্রিমভিত্তিক সসের গঠন ঠান্ডা করার পর বদলে যেতে পারে। তাই এ ধরনের সস আলাদাভাবে তৈরি করে পরিবেশনের সময় মেশানো ভালো।
বিজ্ঞাপন
পাস্তা দিবসের তাৎপর্য কী?
পাস্তা দিবসের সূচনা নিয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য সীমিত। তবে দিনটি জনপ্রিয় এই খাবারের বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও রান্নার বিভিন্ন পদ্ধতি তুলে ধরার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
ইতালীয় খাবারের ঐতিহ্য থেকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত পদে পরিণত হওয়া পাস্তা আজ নানা সংস্কৃতির রান্নায় জায়গা করে নিয়েছে। উপকরণ, সস ও পরিবেশনের ধরনে পরিবর্তন এনে মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী এই খাবার তৈরি করছে। তাই পাস্তা দিবস শুধু একটি খাবার উদযাপনের দিন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরারও একটি উপলক্ষ।








