Logo

হাট ভরা কোরবানির পশু, দাম নাগালে আসার অপেক্ষায় ক্রেতারা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৪ জুন, ২০২৪, ২২:৫৫
হাট ভরা কোরবানির পশু, দাম নাগালে আসার অপেক্ষায় ক্রেতারা
ছবি: সংগৃহীত

ক্রেতার আনাগোনাও তেমন চোখে পড়ার মতো না

বিজ্ঞাপন

আর মাত্র তিন দিন বাকি ঈদুল আযহার। এরই মধ্যে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গবাদি পশুতে কোরবানির হাটগুলো ভরে উঠেছে। তবে ক্রেতা সমাগম এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ নয়। আর যা ক্রেতারা আছেন, তারাও বেশিরভাগ বাজার যাচাই করে গরু না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই যেন চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিক্রেতাদের কপালে। একদিকে ক্রেতারা বলছেন, আকাশচুম্বী দাম হাঁকানো হচ্ছে, অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সবকিছুর দামই বেড়েছে আকাশচুম্বি। এ অবস্থায় ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও এখনও পর্যন্ত বেচাকেনা জমে ওঠেনি।

শুক্রবার (১৪ জুন) রাজধানীর গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাট ভরা গরু নিয়ে অলস সময় পার করছেন এসব ব্যবসায়ীরা। আর হাকডাকও তেমন একটা নেই। গরু-ছাগলের পাশাপাশি উট, দুম্বা, মহিষ, ভেড়াও উঠেছে এই হাটে। ক্রেতার আনাগোনাও তেমন চোখে পড়ার মতো না।

বিজ্ঞাপন

হাট ঘুরে অনেক ক্রেতাই বলছেন, এ বছর কোরবানির পশুর দাম তাদের ধারণারও বাইরে বেড়েছে। তাই দাম কমার জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে চান এসব ক্রেতারা। তাদের দাবি, সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুরি করে কোরবানির পশুর দাম বাড়িয়ে চাইছেন এসব ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সরকারি হিসাব বলছে, দেশে এবার চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশুর সংখ্যা অনেক বেশি আছে। বৃহস্পাতবার (১৩ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান বলেছেন, এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ৭ লাখ। সেখানে গরু-ছাগলসহ কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত আছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের। অর্থাৎ ২২ লাখেরও বেশি পশু এবার উদ্ধৃত্ত আছে। বাজারে যেকোনো পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। দেশে প্রয়োজনের চেয়ে পশুর উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি আছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাণিসম্পদ খাতের বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, রেকর্ডসংখ্যক কোরবানিযোগ্য পশু মজুত আছে এবার। সে হিসাবে দাম অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটছে না।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে খামারিরা বলছেন, গবাদিপশু লালনপালনের খরচ আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পশুখাদ্যের দাম গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তারই প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর বাজারে।

অপরদিকে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি যে হারে হচ্ছে, কিন্তু মানুষের আয়-রোজগার সে হারে বাড়ছে না। তার ওপর কোরবানির পশু ব্যবসাকে ঘিরে আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এই মুহূর্তে যেমন দাম চাওয়া হচ্ছে, তা মানুষের বাজেটের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। তাই এখনই কোরবানির পশু না কেনার চিন্তা ভাবনা তাদের। ক্রেতা না পেলে শেষ মুহূর্তে এসে হলেও ব্যবসায়ীরা অযাচিত দাম চাওয়া বন্ধ করবেন বলে আশা তাদের।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, বড় আকারের গরুর দাম জিজ্ঞেস করেই ক্রেতারা চলে যাচ্ছেন, কিনতে তেমন কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না।

হাট ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় মোসলেম উদ্দিন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, গতবার যে গরু এক লাখ টাকায় পেয়েছিলাম, এবার সেরকম একটা গরুর দামই দুই লাখ ২০ হাজার চাচ্ছে। দুই লাখের নিচে নামতেই রাজি না এসব বেপারী। সাধের সঙ্গে সাধ্যের ব্যাপারটাও তো দেখতে হবে। দরকার হলে চাঁদ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। আশা করছি, দাম অনেকটা পড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

তানজীব রহমান নামে আরেকজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, বাজারে কোরবানির পশুর কোনো অভাব নাই। এরপরও দাম ছাড়তে রাজি হচ্ছে না এসব বিক্রেতারা। দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। হাটের এ মাথা থেকে ওই মাথা ঘুরেও বাজেট অনুযায়ী কোনো গরু পাচ্ছি না। অতিরিক্ত দামের জন্য খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। দাম অর্ধেকে না আসা পর্যন্ত গরু কিনবো না। ক্রেতা না পেলে এমনিতেই বাজারে দাম পড়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

এমএল/ 

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD