জাপানি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশিকে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবে এবং জাপানি উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত হন।
বৈঠকে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক গবেষণা এবং জাপানে নার্স ও পরিচর্যাকারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
আকিয়ে আবে বৈঠকে বিশেষভাবে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক দূষণ রোধে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন এবং জানান, এই বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশংসা করেন।
ড. ইউনূস জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি টোকিও সফর করবেন। সেখানে তিনি জাপানের সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা উদ্যোগে অংশ নেবেন এবং চট্টগ্রামের মহেশখালী-মাতারবাড়ী উপকূলীয় এলাকায় তিনটি আদর্শ মৎস্যগ্রাম গড়ে তোলার চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানে কর্মসংস্থানের জন্য হাজার হাজার নার্স ও কেয়ারগিভারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে সহায়তা করতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছরে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশিকে জাপানে পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে এবং জাপানি প্রতিনিধি দল ও আকিয়ে আবের সহযোগিতা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে জাপানের শীর্ষ বায়োফুয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনার প্রতিষ্ঠাতা মিৎসুরু ইজুমো সামাজিক ব্যবসাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
ড. ইউনূস আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বা কোনো সরকারি পদে থাকার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। বরং তিনি মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং ‘থ্রি জিরো’—শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ ও শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে চান।








