Logo

রাজধানীতে ১৭২০ ঈদ জামাত, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ডিএমপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৩১
রাজধানীতে ১৭২০ ঈদ জামাত, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এবার মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৩৫ হাজারের বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়। একই সঙ্গে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পৃথক ঈদ জামাত আয়োজন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীতে আগের দিন তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য আটটি জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররমসহ ঢাকার সব ঈদ জামাতকে ঘিরে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের হুমকি না থাকলেও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রাখা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, সেখানে বহুপদক্ষেপে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোর মুখ—মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হবে, যাতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এসব পয়েন্টেও তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি আরও জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে চারপাশে পুলিশের টহল জোরদার থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশ পথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন।

ডিএমপি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। বায়তুল মোকাররম এলাকা ঘিরেও প্রায় একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহকেন্দ্রিক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচলে ডাইভারশন থাকবে। জিরো পয়েন্ট, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল এলাকা, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের সড়ক, পল্টন ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত স্থান থেকে হেঁটে ঈদগাহে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে কোথাও গাড়ি না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের ব্যাগ বা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে না আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা পরিস্থিতি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশ সদস্য বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সড়কে অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল রোধে ট্রাফিক পুলিশ সক্রিয় থাকবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD