১১ হাজার নতুন চাকরির সুযোগ, চালু হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ পাটকল

দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি বড় পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আবারও চালু হতে যাচ্ছে। কারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে প্রায় ১১ হাজার ৬২৯ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এবং বেসরকারি দুটি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে ইজারা-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা চুক্তিতে সই করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিন পাটকলে বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা
চুক্তির আওতায় বন্ধ থাকা তিনটি পাটকল পুনরায় উৎপাদনে আনতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এসব কারখানা চালুর পর বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার সম্ভাব্য টার্নওভার অর্জনের আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে পাটশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় জুট মিলে বিনিয়োগ ১৫৭ কোটি
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড পুনরায় চালু করতে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। এই কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর মিলটি চালু হলে সিরাজগঞ্জের স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
স্টার জুট মিলে বিনিয়োগ ২৫০ কোটি
বিজ্ঞাপন
খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত স্টার জুট মিলস লিমিটেড চালুর জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি করা হচ্ছে। এ মিলের জন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে গেলে আরও ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। খুলনা অঞ্চলের পাটশিল্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এ উদ্যোগ নতুন গতি আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে ২১২ কোটি টাকা
বিজ্ঞাপন
খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ। মিলটি পুনরায় চালুর জন্য প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন শুরু হলে সেখানে প্রায় ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২৫ বন্ধ পাটকলের ২০টি ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির অধীনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মোট ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে ১৪টি পাটকলের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মধ্যে ৯টি কারখানায় ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানাগুলোকে পুনরায় উৎপাদনের আওতায় আনা, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
পাটশিল্পে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কারখানাগুলো পরিচালিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা ও বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এসব কারখানাকে লাভজনক ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তিনটি পাটকলের নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের হিসাব অনুযায়ী, একদিকে কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি চাকরির সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে পরিবহন, কাঁচামাল সরবরাহ, পণ্য বিপণনসহ সংশ্লিষ্ট খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিজ্ঞাপন
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সম্পদের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দেশের পাট খাতেও নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।








