Logo

চলতি অর্থবছরে সরকারের ৩০ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ, লক্ষ্য ১৫০

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:২৯
চলতি অর্থবছরে সরকারের ৩০ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ, লক্ষ্য ১৫০
ছবি: সংগৃহীত

দেশের গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সক্ষমতা বাড়াতে চলতি অর্থবছরে ৩০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে তিনটি কূপ খননের কাজ চলছে। এ ছাড়া স্থলভাগে মোট ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসের অনেক উৎস রয়েছে। সরকার এসব উৎস কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে ‘বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতি খাতের উদীয়মান শিল্প নিয়ে পরিকল্পনাগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুনীল অর্থনীতির আওতায় নতুন শিল্পের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুনীল অর্থনীতি সেল রয়েছে। এ খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণশিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন।

তিনি আরও বলেন, বন্দরগুলোর সঙ্গে দেশের উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, আইইউবি ও বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্র এ বিষয়ে কাজ করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ চট্টগ্রাম বন্দরে হয়। দেশে ২১ হাজার টন জ্বালানি তেলবাহী একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। অথচ সিঙ্গাপুরে একই কাজ করতে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গোপসাগর গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম। তিনি বঙ্গোপসাগর, সুনীল অর্থনীতি এবং এ খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইউবির স্কুল অব লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. বখতিয়ার আহমেদ। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়াম বিনতে হাসান ফারিন। সূত্র: বাসস।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD