Logo

সরকারের বড় সাফল্য: সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, মিলছে বিপুল গ্যাস

profile picture
বাসস
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:২১
সরকারের বড় সাফল্য: সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, মিলছে বিপুল গ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে দ্রুতগতিতে ৩২টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ২০৩১ থেকে ২০৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার চাপও কমবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ১৪টি কূপ রয়েছে। এগুলো হলো—বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ১১টি কূপ হলো—টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের সাতটি কূপের খননকাজ শেষ হয়েছে। এগুলো হলো—তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ ও কামতা-২।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় বর্তমানে এসব কূপ থেকে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রোবাংলার রিজার্ভার ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও সাতটি কূপের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এগুলো হলো—রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব কূপের খননকাজ শেষ হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে উৎপাদিত গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না।

বিজ্ঞাপন

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে পেট্রোবাংলার পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর দেশের নির্ভরতা কমানোর একটি উদ্যোগ। দ্রুত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাস যাতে সময়মতো জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চালন অবকাঠামোর অভাবে তা যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে ২৬টি সমুদ্রসীমার ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কূপ খননের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে জরিপ কার্যক্রমও চলছে। প্রকল্প নেওয়ার আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থান চিহ্নিত করে সেখানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও দেশে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান এখনো রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান কূপের সংস্কার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং পরবর্তী ২০৩১ থেকে ২০৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD