উত্তরায় রণক্ষেত্র : পুলিশকে পিটিয়ে হাত ভাঙলো পোশাককর্মীরা

রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় শিল্প পুলিশের এক সদস্যের হাত ভেঙে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
এ ঘটনায় ১৯ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কয়েকটি স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। এসব স্থানের মধ্যে ছিল কসাইবাড়ি রেলগেট, জামতলা রেলগেট, আজমপুর রেলগেট এবং জসিমউদ্দিনের হলি ল্যাব মোড়।
বিজ্ঞাপন
পরে বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকরা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কে একত্রিত হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশ অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। শ্রমিকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যে শিল্প পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বাহিনীর এক সদস্য আহত হন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উত্তরা বিভাগের ডিসি রেজাউল করিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। ফুটেজের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চলমান এই শ্রমিক আন্দোলনের মূল দাবি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ। দাবি আদায়ে টানা কয়েক দিন ধরে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।








