১ম বিয়ের তথ্য গোপন, জানাজানি হতেই ২য় স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বিজ্ঞাপন
প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন স্বামী রাজা মিয়া। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দাম্পত্য বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুকুর আহম্মদ (২৪)।
পিবিআই জানিয়েছে, মুসলিম উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাট-সংলগ্ন খাল থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় জান্নাতুলের মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন নিয়ে বিরোধ
মামলার তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, রাজা মিয়া নিজের প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে জান্নাতুলকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি।
বিজ্ঞাপন
পরে জান্নাতুলকে নিয়ে তাঁরা নৌকায় করে শিকলবাহা খালের দিকে রওনা হন। রাত ৮টার পর নৌকার মধ্যে রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে জান্নাতুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রাজা মিয়া তাঁর মুখ চেপে ধরেন এবং রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরে জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের অংশে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
টেকনাফে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার
বিজ্ঞাপন
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। টেকনাফ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে গ্রেফতার করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর মুসলিম উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। অন্যদিকে, গ্রেফতার শুকুর আহম্মদকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ও অন্যদের বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








