শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক অনুপস্থিত, প্রশাসনে বিভ্রান্তি

জীবননগর উপজেলার হাজী মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সফরে গিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত শিক্ষক আলম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তার অনুপস্থিতি নিয়ে স্কুল প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তি।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে এবং তিনি অনুপস্থিত নন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক অসুস্থতার কথা জানিয়ে মৌখিকভাবে ছুটিতে রয়েছেন। তবে ওই ছুটি লিখিতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য নথি দেখাতে পারেননি তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে পত্রিকার কাটিংসহ লিখিত অভিযোগ শিক্ষা অফিস (ইউএনও) স্যারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কী ধরনের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি দরখাস্তে উল্লেখ আছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত ওই বিদ্যালয় থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে কোনো লিখিত কাগজ তার দপ্তরে জমা পড়েনি। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে স্কুলে আছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক আলম এখনো স্কুলে যাচ্ছেন না।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন হচ্ছে—এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বার অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, এই ঘটনার প্রাথমিক সংবাদে তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান আব্দুল জব্বার। তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিবেদককে একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।








