সদরপুরের দুর্গম চরে যাত্রীছাউনি, দুর্ভোগে মিলল স্বস্তি

প্রচণ্ড রোদ, ঝড় কিংবা বৃষ্টি—প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই খেয়া নৌকার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো যাত্রীদের। আশপাশে ছিল না কোনো বাড়িঘর কিংবা নিরাপদ আশ্রয়। ফলে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের পোহাতে হতো চরম দুর্ভোগ। তাঁদের সেই ভোগান্তি কিছুটা কমাতে এবার দুর্গম চরাঞ্চলের একটি খেয়াঘাটে নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রীছাউনি।
বিজ্ঞাপন
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বারটেক শিমুলতলী খেয়াঘাটে ছাউনিটি নির্মাণ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান। নিজের অর্থায়নে নির্মিত ছোট এই স্থাপনাটি এখন নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য আশ্রয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদবেষ্টিত চরনাছিরপুর ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং শিক্ষাসহ নানা প্রয়োজনে তাঁদের নদী পার হতে হয়। কিন্তু খেয়াঘাটে পৌঁছানোর পর সময়মতো নৌকা না পেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া তাঁদের সামনে বিকল্প তেমন থাকে না।
বিশেষ করে প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের সময় পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। আশপাশে বসতি না থাকায় এত দিন যাত্রীদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তেন নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীরা। একই সঙ্গে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ব্যবসায়ীদেরও মালামাল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো।
বিজ্ঞাপন
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান নিজ উদ্যোগে খেয়াঘাটে যাত্রীছাউনিটি নির্মাণ করেন। এর ফলে নৌকার জন্য অপেক্ষা করার সময় যাত্রীরা এখন অন্তত রোদ-বৃষ্টি থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাচ্ছেন। বৃষ্টির সময় ব্যবসায়ীদের মালামাল সাময়িকভাবে রাখার ক্ষেত্রেও ছাউনিটি কাজে আসছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মোল্যা বলেন, “রোদ-বৃষ্টি যা-ই হোক, নৌকা আসতে দেরি হলেও এখন আর আগের মতো অসুবিধা হয় না। যাত্রীদের মাথার ওপর অন্তত একটু আশ্রয় রয়েছে। এটি আমাদের অনেক উপকারে এসেছে।”
বিজ্ঞাপন
উপজেলা সদরে চিকিৎসা নিতে আসা জামেলা বেগম বলেন, আগে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নৌকার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে ভিজে যেতাম। আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না। চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগে এখন অন্তত একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।
ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার বলেন, খেয়াঘাট চালু হওয়ার পর থেকে সেখানে কোনো যাত্রীছাউনি ছিল না। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এমনকি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চরাঞ্চল পরিদর্শনে এলেও এই ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো তাঁদের।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নিজ অর্থায়নে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করে দেওয়ায় এখন সবাই কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এই যাত্রী ছাউনি মানবিক কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছাউনিটি নির্মিত হওয়ায় নৌকার জন্য অপেক্ষা করার সময় যাত্রীদের আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
চরনাছিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান বলেন, অনেক দিন ধরেই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্বারটেক শিমুলতলী খেয়াঘাটে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্য কোনো ছাউনি ছিল না। রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যেই তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিক দিক থেকে নিজের অর্থায়নে যাত্রীছাউনিটি নির্মাণ করেছি। স্থাপনাটি ছোট হলেও অনেক যাত্রী এর সুফল পাচ্ছেন। মানুষের উপকারে আসতে পেরেছি, এতেই আমি তৃপ্ত।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম চরাঞ্চলে যাতায়াতের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে এই ছোট উদ্যোগ যাত্রীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে ভূমিকা রাখছে। জনসাধারণের প্রয়োজন বিবেচনায় এ ধরনের উদ্যোগ চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।








