ত্রিশালে খীরু নদীর জরাজীর্ণ ব্রিজ, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ি এলাকায় খীরু নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। পাশেই নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেটি এখনো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয়রা ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার এবং নতুন ব্রিজটি চালু করার দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার ভাইকে হারিয়েছি এই ব্রিজে। কিছুদিন আগেও এখানে একটি ঘোড়া মারা গেছে। একের পর এক মানুষ পা হারিয়ে আজ পথে বসেছে।’
স্থানীয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ জানায়, ‘একদিন সাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। ব্রিজটি ঠিক না করায় বড়দের চলাচলেও সমস্যা হয়। আমরাও ঠিকমতো যেতে পারি না।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, ‘দেশে তিনটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের কিংবা খীরু নদীর এই ব্রিজের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা চাই, বর্তমান সরকার যেন দ্রুত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির কাজ শেষ করে।’
বিজ্ঞাপন
এলাকার মঠবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় তাকে এই ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত ব্রিজটির জরুরি সংস্কার প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।
ভ্যানচালক রিপন মিয়া বলেন, ‘পেটের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ব্রিজে ভ্যান চালাতে হয়। কত মানুষকে চোখের সামনে এই ব্রিজের কারণে পঙ্গু হতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ব্রিজটির পাশেই নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও সেটি চালু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ব্রিজ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, পুরোনো ব্রিজটির পাশে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে সেটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নতুন ব্রিজটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। একই সঙ্গে পুরোনো ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।








