স্ত্রীর নামে জমি লিখে না দেওয়ায় স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরকীয়া প্রেমের সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় পলাতক স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রাম থেকে হাসনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে হাসনা আক্তার পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে তিনি সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রামের এক নারীর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হাসনা আক্তারও একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
প্রায় ছয় বছর আগে রাশেদুল সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। জমিটি স্ত্রীর নামে নিবন্ধন করে দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। গত ৩ অক্টোবরও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছেলে তাওহিদকে নিয়ে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান রাশেদুল। তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তার মেয়ে রুমাইয়াকে নিয়ে পাশের কক্ষে ছিলেন। পরদিন ৮ অক্টোবর ভোর পৌনে চারটার দিকে বাবার চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় ছেলে তাওহিদের। এ সময় সে বাবাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা রাশেদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বাড়ির সামনের সড়কেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসনা আক্তার পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসনা আক্তারকে আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হাসনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।








