Logo

টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ জনের ৮ জনই জবি শিক্ষার্থীর স্বজন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:২৬
টুপটুপ রিসোর্টে নিহত ১০ জনের ৮ জনই জবি শিক্ষার্থীর স্বজন
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আহাদ সরকারের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফাইয়াজ আহম্মেদ এবং নাফিজ তেহামী। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিহতদের মধ্যে নাফিজ তেহামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। নাবিলা ও নাফিজ দুজনই আবদুল আহাদ সরকারের আত্মীয়।

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

অগ্নিকাণ্ডে স্বজনদের হারিয়ে শোকাহত আবদুল আহাদ সরকার জানান, তাঁদের পরিবারের ছয়জন এ ঘটনায় মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর চারজন নারী কাজিন, একজন পুরুষ কাজিন এবং এক নারী কাজিনের পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইয়াজ রয়েছে। নাফিজ ও নাবিলাও তাঁদের আত্মীয়। তাঁরা আহাদের মায়ের ফুফাতো বোনের পরিবারের সদস্য।

আহাদ বলেন, “পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। আমাদের পরিবারের ছয়জন এই ঘটনায় মারা গেছেন।”

সকাল ৭টায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে আসে বেলা ১১টায়

বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লাইসেন্স ছিল না রিসোর্টটির

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

বিজ্ঞাপন

রিসোর্টটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল এবং দুর্ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানিতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লাইসেন্সসংক্রান্ত বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD