Logo

ভ্রমণে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যেসব সতর্কতা জরুরি

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১৩
ভ্রমণে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে যেসব সতর্কতা জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

ভ্রমণের আনন্দ যেন মুহূর্তেই বিপর্যয়ে পরিণত না হয়, সে জন্য হোটেল, রিসোর্ট কিংবা ক্যাম্পিংয়ের সময় অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগুন লাগার আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা বুঝে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

হোটেল বা রিসোর্টে ওঠার পর যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

জরুরি নির্গমনপথ চিনে নিন: চেক-ইন করার পর নিজের কক্ষের কাছাকাছি জরুরি বের হওয়ার পথ, সিঁড়ি এবং বিকল্প নির্গমনপথ কোথায় রয়েছে, তা দেখে নিন। সম্ভব হলে নির্ধারিত পথের বিকল্প ব্যবস্থাও জেনে রাখুন।

দরজা গুনে পথ মনে রাখুন: কক্ষ থেকে জরুরি নির্গমনপথ পর্যন্ত কতটি দরজা রয়েছে, তা মনে রাখলে ধোঁয়া বা অন্ধকারের মধ্যে পথ খুঁজে পেতে সুবিধা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

চাবি বা কার্ড হাতের কাছে রাখুন: ঘুমানোর সময় কক্ষের চাবি বা কার্ড এমন স্থানে রাখুন, যেখান থেকে দ্রুত নেওয়া সম্ভব। তবে চাবি খুঁজতে গিয়ে কখনোই বের হতে দেরি করবেন না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্মোক অ্যালার্ম পরীক্ষা করুন: কক্ষে ধোঁয়া শনাক্তকারী অ্যালার্ম ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা জেনে নিন। অ্যালার্ম বাজলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান।

আগুন লাগলে যেভাবে নিরাপদে বের হবেন

বিজ্ঞাপন

লিফট ব্যবহার করবেন না: আগুন লাগলে লিফট এড়িয়ে জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ধোঁয়া বা আগুনে সিঁড়ির পথ বন্ধ থাকলে জোর করে সেই পথে এগোবেন না; নিরাপদ বিকল্প পথ অনুসরণ করুন।

দরজা খোলার আগে সতর্ক হন: দরজা বা হাতল গরম কি না, তা হাতের পেছনের অংশ দিয়ে সতর্কভাবে পরীক্ষা করুন। দরজা গরম থাকলে খুলবেন না। দরজার নিচ দিয়ে ধোঁয়া ঢুকলে বা বাইরে আগুন দেখা গেলে বিকল্প নিরাপদ পথ খুঁজুন।

ধোঁয়ার মধ্যে নিচু হয়ে চলুন: ধোঁয়া সাধারণত ওপরে জমা হয়। তাই ধোঁয়ায় ভরা জায়গায় পড়লে যতটা সম্ভব নিচু হয়ে নিরাপদ পথে এগোন। নাক-মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকলেও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যায় না। সম্ভব হলে দ্রুত ধোঁয়ামুক্ত স্থানে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ নিয়ে সতর্ক থাকুন: আগুন লাগলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে মেইন সুইচ বা গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করতে যাবেন না। নিরাপদে বেরিয়ে আসুন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিষয়টি জানান।

জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন: নিরাপদ স্থানে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করুন। আগুনের অবস্থান, ভবনের নাম এবং আটকে পড়া মানুষের তথ্য জানাতে পারলে উদ্ধারকাজে সুবিধা হবে।

ক্যাম্পিংয়ের সময় অগ্নিনিরাপত্তা

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পিংয়ে আগুন জ্বালানোর জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করুন। তাঁবু, শুকনো পাতা, গাছের ডাল ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু থেকে আগুন দূরে রাখুন। স্থান ত্যাগ করার আগে আগুন সম্পূর্ণ নিভেছে কি না নিশ্চিত করুন।

পাওয়ার ব্যাংক, ল্যাপটপ ও চার্জার ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত তাপ, ক্ষতিগ্রস্ত তার কিংবা অস্বাভাবিক গন্ধের দিকে নজর রাখুন। যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর চাপ দিয়ে বা অনুপযুক্ত চার্জার ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

কাঠ-বাঁশের রিসোর্টে আগুন লাগলে করণীয়

বিজ্ঞাপন

কাঠ ও বাঁশের মতো দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আগুনের সংকেত পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান: আগুন দেখামাত্র ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য সময় নষ্ট না করে বাইরে বেরিয়ে আসুন। আগুনের কাছাকাছি না গিয়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদের সতর্ক করুন: ‘আগুন, আগুন’ বলে আশপাশের অতিথি ও কর্মীদের সতর্ক করুন। তবে কাউকে সতর্ক করতে গিয়ে নিজের বের হওয়ার পথ ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।

বিজ্ঞাপন

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: আগুন খুব ছোট হলে, বের হওয়ার পথ নিরাপদ থাকলে এবং যন্ত্রটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকলেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন। আগুন বাড়তে থাকলে নেভানোর চেষ্টা না করে দ্রুত সরে যান।

আগুনের ধরন বুঝে ব্যবস্থা নিন: কাঠ বা বাঁশে লাগা ছোট আগুনে পানি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় কিংবা রান্নার তেলে আগুন লাগলে পানি ঢালবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে।

নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে জড়ো হন: রিসোর্টের বাইরে নিরাপদ স্থানে গিয়ে দলের সদস্যদের খোঁজ নিন। উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করুন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগে ভবনে ফিরে যাবেন না।

বিজ্ঞাপন

ভ্রমণের সময় মনে রাখতে হবে, পাসপোর্ট, টাকা, মোবাইল কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রীর চেয়ে জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগুন লাগলে কোনো অবস্থাতেই মালামাল উদ্ধার করতে কক্ষে ফিরে যাবেন না। আগে থেকেই জরুরি নির্গমনপথ সম্পর্কে ধারণা রাখুন, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলুন এবং বিপদের সময় দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD