Logo

দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল, ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৫
দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল, ৮০ শতাংশ হোটেল বুকিং
ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বাড়ছে পর্যটকদের আগমনের সম্ভাবনা। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে অনেক আবাসিক হোটেলের কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটায় ছোট-বড় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোতে আগামী ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য প্রায় শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভ্যাল-২০২৬ উপলক্ষেও আবাসন বুকিং শুরু হয়েছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এসব আবাসনকেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ছুটিতে বাড়তি চাপ সামলাতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়িও হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তাঁর আশা, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকদের থাকার জায়গা নিয়ে চাপ কিছুটা কমবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ায় এবার পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাঁদের সেবা দিতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ফিশ ফ্রাই, আচার ও ঝিনুকসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক শ্রমিককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হোটেল বেস্ট সাউদার্নের পরিচালক জনি জানান, তাঁদের হোটেলের ৩১টি কক্ষ আগামী ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য পুরোপুরি বুকিং হয়ে গেছে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অন্যান্য দিনেও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করে কক্ষ খুঁজছেন, কিন্তু খালি কক্ষ না থাকায় তাঁদের ফেরাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন তালুকদার জানান, তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলে মোট ২২টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। সাধারণ সময়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হলেও বর্তমানে ছাড়ের পরিমাণ ১০ থেকে ২০ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের বাড়তি খরচ এবং দিনের বেশির ভাগ সময় জেনারেটর চালানোর কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। বছরের তিন থেকে চার মাসের পর্যটন ব্যবসার আয় দিয়েই তাঁদের সারা বছরের খরচ সামলাতে হয়।

বিজ্ঞাপন

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। ছুটির সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর নিয়মিত কর্মদিবসের পর ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিরিক্ত সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় দীর্ঘ অবকাশ তৈরি হয়েছে।

এই ছুটিতে অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে কুয়াকাটার মতো সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক গন্তব্যে পর্যটকের চাপ বাড়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ও হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. রাসেল বলেন, দুর্গাপূজার সময় কুয়াকাটায় সাধারণত পর্যটকের সংখ্যা বেশি থাকে। এ সময় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হোটেল-মোটেল মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা এবং খাবারের মান ও দাম ঠিক রাখার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে কুয়াকাটার তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল পর্যটক বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পর্যটন খাতে বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও সৈকত, সড়ক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ থাকায় কুয়াকাটা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য। সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে পর্যটন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পদ্মা সেতু চালুর পর সারা বছরই পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সৈকতের ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও সড়ক যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের মতে, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সৈকত সংরক্ষণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং পর্যটন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন জরুরি।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান জানান, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের সম্ভাব্য বাড়তি চাপ সামলাতে টুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ যৌথভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সৈকতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD