কানুদার খালের তীরে শালিখা ইকোপার্কে প্রকৃতির মুগ্ধতা

ব্যস্ত নগরজীবন ও দৈনন্দিন কাজের ক্লান্তি পেছনে ফেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চান অনেকেই। সবুজ ধানক্ষেত, শান্ত খালের জলধারা আর নির্মল বাতাসের এমন পরিবেশ খুঁজে পেতে দূরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকায় কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা শালিখা ইকোপার্ক এখন স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও অবসর কাটানোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ পার্কে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঘুরতে আসছেন। পরিবার-পরিজন, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ মিলছে এখানে।
খাল, সবুজ ধানক্ষেত আর নির্মল বাতাসে প্রশান্তির পরিবেশ
সরেজমিনে পার্কটিতে দেখা যায়, একদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ ধানক্ষেত, অন্যদিকে বয়ে চলেছে কানুদার খাল। চারপাশের গাছপালা, খোলা মাঠ এবং শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। খালের পানিতে নৌকার চলাচল আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য ভ্রমণপিপাসুদের জন্য তৈরি করেছে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
ব্যস্ততার বাইরে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান এমন মানুষের কাছে পার্কটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
প্রকৃতি সংরক্ষণেও রয়েছে গুরুত্ব
শালিখা ইকোপার্কের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্কের বিভিন্ন স্থানে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছ পরিবেশকে সবুজ রাখার পাশাপাশি পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে।
কানুদার খাল ও আশপাশের এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নৌকাভ্রমণ থেকে শিশুদের খেলাধুলা
প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য পার্কে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। কানুদার খালে প্যাডেল বোট ও সাধারণ নৌকায় ঘোরার সুযোগ রয়েছে। নৌকায় চড়ে খালের শান্ত জলরাশি ও চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন ভ্রমণকারীরা।
পার্কের ভেতরে হাঁটাচলার জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রয়েছে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি কটেজ।
বিজ্ঞাপন
শিশুদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম ও রাইড। ফলে বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও এখানে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে।
পার্কের প্রহরী মাসুম বিল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই পার্কে আমরা দুজন অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত আছি। সেভাবে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। পার্কে দোলনা, খেলনা এবং নৌকা আছে; এগুলো থেকে যে ইনকামটা আসে সেখান থেকে আমাদের নামমাত্র বেতন দেওয়া হয়। তবে পার্কটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।’
স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘শালিখা ইকোপার্কটি এখন মানুষের বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি বেশ সুন্দর একটি জায়গা। পার্কটির আরও উন্নয়ন ও পরিচর্যা করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।’
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে পার্কটির পরিবেশ ভালো লেগেছে শিক্ষার্থী রবিনেরও। তিনি বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে জায়গাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। এখানে একদিকে সবুজ প্রকৃতি, অন্যদিকে খাল—দুই ধরনের সৌন্দর্যই উপভোগ করা যায়। নৌকায় ঘোরার সুযোগ থাকায় সময়টা আরও আনন্দময় হয়েছে। পরিবার নিয়ে আসার জন্যও জায়গাটি বেশ উপযোগী।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দর্শনার্থীদের মতে, পরিবার নিয়ে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পিকনিকের আয়োজন—বিভিন্ন উপলক্ষেই শালিখা ইকোপার্ক হতে পারে মনোরম গন্তব্য। মাগুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়পাড়া বাজারে এসে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা থ্রি-হুইলারে সহজেই পার্কটিতে পৌঁছানো যায়।
পর্যটন বিকাশে আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা
বিজ্ঞাপন
শালিখা ইকোপার্কের সম্ভাবনা নিয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘শালিখা ইকোপার্কটি প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে একটি সম্ভাবনাময় স্থান। পার্কটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিনোদনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শালিখা ইকোপার্ক ভবিষ্যতে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিচর্যা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিতভাবে পার্কটির উন্নয়ন করা গেলে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি মাগুরার পর্যটনেও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।








