Logo

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড : নজরুল-সুইটির সম্পর্ক নিয়ে যা বলছে পরিবার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২৭
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড : নজরুল-সুইটির সম্পর্ক নিয়ে যা বলছে পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই দাবি নাকচ করেছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি জানিয়েছেন, সুইটি আক্তারকে তাদের পরিবার চেনে না এবং তিনি নজরুলের স্ত্রী নন।

বিজ্ঞাপন

নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার পর অল্প সময় কাজ করতে পেরেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয় তাকে।

‘ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না’

আব্দুল বাছির বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে কলেজে পড়ার সময়ই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সুইটি আক্তারের সঙ্গে নজরুলের বিয়ের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। তার ভাষ্য, তারা শুনেছেন, দুজন একই জায়গায় কাজ করতেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এমন তথ্যও সঠিক নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল বাছির আরও জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর নজরুল মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। কী অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তা এখনো পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানিয়েছেন তার বাবা।

সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান বাবা

নজরুলের বাবা জানান, ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন তিনি। নজরুল সেখানে কাজ শুরুর পর দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি এখনো ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে তাকে। ঋণদাতারাও টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল বাছির বলেন, তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে চান। তার দাবি, নজরুলকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এ ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

২০২২ সালে সৌদি আরবে যান নজরুল

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান ২৫ বছর বয়সী নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নজরুলের গ্রেফতারের খবর পরিবার জানতে পারলেও তাকে ঠিক কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পায়নি বলে দাবি স্বজনদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ নজরুল ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নজরুলের গ্রামের মানুষ তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সমবেদনা জানাচ্ছেন।

সঠিক তথ্য অনুসন্ধানের আহ্বান

বিজ্ঞাপন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না। সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার অভিযোগ, এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, দূতাবাস কার্যকরভাবে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তিনি আরও বলেন, নজরুলের পরিবারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ যোগাযোগ করেননি।

গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিনও এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, সৌদি আরবে বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। নজরুলের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

দরিদ্র কৃষক পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর পর নজরুলের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নজরুল ও সুইটির মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিবারের বক্তব্যে উঠে আসেনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD