১৫ দিনেই মধ্যেই শেষ হতে পারে রামিসা হত্যা মামলার বিচার

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। ধারাবাহিক শুনানি হলে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এখন বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা থাকবে। আদালত চাইলে ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে স্বল্প সময়েই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব।
রাষ্ট্রপক্ষের মতে, সাক্ষীদের উপস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা না থাকলে ১৫ দিনের মধ্যেই বিচার শেষ হতে পারে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৪ মে আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত প্রতিবেদনে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা রিপোর্ট ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত যুক্ত করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিহত শিশুর বাবা, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আদালতে হাজির হয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে ওই ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং অভিযোগপত্রেও ‘ডলার’ নামে কারও সম্পৃক্ততার উল্লেখ নেই।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য, ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতেই মামলাটি পরিচালিত হবে। আদালতে আসামির নতুন দাবি সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
গত ১৯ মে মিরপুরের একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা, ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অল্প সময়ের মধ্যেই রায় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।








