Logo

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস বাবরসহ ৯

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জুন, ২০২৬, ১৮:৩৪
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা চেষ্টা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস বাবরসহ ৯
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, রাজনীতিক আরিফুল হক চৌধুরী এবং জি কে গউছসহ বাকি নয় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়কে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন জানান, মামলার মোট ১০ জন আসামির মধ্যে হাফিজ নাইম নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলার ফলে সেখানে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অন্তত ২৯ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ মানুষও ছিলেন।

ঘটনার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরও একটি পৃথক মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর আদালত মামলার ১০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় দেন। রায়ে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার পর খালাসপ্রাপ্ত নেতারা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

তাদের মতে, আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD