সাংবাদিক আজহার আলীকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাংবাদিক আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রমনা বিভাগের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার মামলায় আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনটির ওপর শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
শুনানির সময় আজহার আলীকে হুইলচেয়ারে করে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। তাঁকে দেখে বিচারক তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এরপর তদন্ত কর্মকর্তার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নিয়ে শুনানি শুরু হয়।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আখতার মোর্শেদ আবেদনটির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মনসুর রিপন আদালতের কাছে আবেদনটি খারিজ করার অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে অংশ নেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন অনুমোদন করেন।
আজহার আলীর আইনজীবী শেখ অলিউজ্জামান উজ্জল জানান, রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তাঁর মক্কেল উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। তবে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে নতুন মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর মুক্তি সম্ভব হবে না।
বিজ্ঞাপন
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর সহযোগী সন্দেহে আজহার আলীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় বনশ্রীর বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যান। পরদিন রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রমনা থানার মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মিন্টো রোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে সন্দেহজনক অবস্থায় থাকা এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সহযোগী হিসেবে এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনুর রশীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, শাহবাগ থানার মামলাটি করা হয় গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’-এর উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানবিষয়ক একটি আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্না, অধ্যাপক কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটকের পর তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নতুন মামলায় আদালতের এই আদেশের ফলে সাংবাদিক আজহার আলীকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হবে। তাঁর মুক্তির বিষয়টি এখন শাহবাগ থানার মামলায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম ও জামিনের ওপর নির্ভর করবে।








