হাসিনার ফেরার ঘোষণা ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: চিফ প্রসিকিউটর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে সাহস থাকলে শেখ হাসিনার উচিত আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, দিল্লি থেকে দেশে ফেরার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল বা স্ট্যান্টবাজি হিসেবেই দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, সত্যিকার অর্থে দেশে ফিরতে আগ্রহী হলে শেখ হাসিনার উচিত বাংলাদেশে এসে জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার মোকাবিলা করা।
আরও পড়ুন: চিকিৎসা শেষে আবার কারাগারে দীপু মনি
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, জুলাইয়ের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ১০টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম এসেছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু, বিচারপতি মানিক, কামাল আহমেদ মজুমদারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদনগুলো আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে বিচারিক কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা যায়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে রবিবার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বিশেষ হেলিকপ্টারে করে বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জুলাইয়ের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।








