Logo

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:১৫
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে
ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)। পল্লবী থানায় দায়ের করা এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এজলাসে তোলা হয় তাঁদের।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে যেসব অভিযোগ

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha #1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্য পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে। ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরে ১০১ সদস্যের কমিটি তৈরি করেন। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD