মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ :

নাফনদীর ওপারে দিনভর বিমান-হেলিকপ্টার চক্কর, বিস্ফোরণের শব্দ আর কালো ধোঁয়া


Janobani

উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬:৩০ অপরাহ্ন, ৬ই মে ২০২৪


নাফনদীর ওপারে দিনভর বিমান-হেলিকপ্টার চক্কর, বিস্ফোরণের শব্দ আর কালো ধোঁয়া
ছবি: প্রতিনিধি

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের জের ধরে সোমবার দিনভর কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদীর ওপারে দেখা মিলেছে বিমান ও হেলিকপ্টারের চক্কর। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে টেকনাফের সীমান্ত জুড়ে। নাফনদীর ওপারে মিয়ানমারের কয়েকটি গ্রামে কালো ধোঁয়ার কুন্ডলিও দেখা মিলেছে।


সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টা) এ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুজিবুর রহমান।


তিনি জানান, টানা কিছু দিন ধরে বিস্ফোরণের কোন শব্দ শোনা না গেলেও সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার নাফনদীর সোজা পূর্বে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিকট শব্দের বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। ওই এলাকায় দিনভল বিমান ও হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে।


আরও পড়ুন: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এলো আরও ৮৮ বিজিপি সদস্য


তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে মিয়ানমার রাখাইন  রাজ্যে মংন্ডু  শহরের উত্তর পাশে কাওয়ার বিল চৌকি দখলের পর আশিকাপাড়া, আরশিয়াপাড়া ও বসুয়ার এলাকায় বিমান ও হেলিকপ্টার দিয়ে মটার শেল নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছে। এতে করে  টেকনাফের চৌধুরী পাড়া এলাকার ধোয়ার কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছে এবং বিকট শব্দে কেঁপে উঠছে । 


টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সকাল থেকে থেমে থেমে মিয়ানমারের ওপারে বিকট শব্দ টেকনাফে শোনা গেছে। আবার কখনো কখনো মিয়ানমারের আকাশে হেলিকপ্টার ও বিমান উড়তেও দেখা যায়। ওই হেলিকপ্টার ও বিমান থেকে মিয়ানমারের কয়েকটি গ্রামে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। ওই বোমার শব্দে কেঁপে উঠেছে টেকনাফ। এসব দেখার জন্য বিকেলের দিকে একদিনের ট্রানজিট জেটিঘাটে প্রচুর লোকজন জোড়ো হতে দেখা গেছে।


টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলার শব্দে এ পার কেঁপে উঠছে। বেশ কিছু দিন গোলার শব্দ শোনা না গেলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিকট গোলার শব্দ পাচ্ছি। মনে হচ্ছে বোমা এসে এ পারে পড়ছে।


সকাল থেকে ভারী গোলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফের পৌরভার কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, রাখাইনে চলমান যুদ্ধে এ পারে অনেক ভারী গোলার বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের গোলার আওয়াজ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।


হ্নীলা সীমান্তের আব্দুর গফুর জানান, সকালে ওপার থেকে আসা ভয়ঙ্কর কয়েকটি শব্দ শুনেছি। মনে হয়েছে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ। দিনের বিভিন্ন সময় বড় ধরনের কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গেছে


টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলির শব্দ এ পারে শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। নাফ নদের সীমান্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


হ্নীলা সীমান্তের বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ বলেন, সকাল থেকে সীমান্তে ভারী গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিনের তুলনার আজকে গোলার শব্দ বিকট।


আরও পড়ুন: নাফ নদী দিয়ে পালিয়ে এলো মিয়ানমারের বিজিপির আরও সদস্য


টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার নাফ নদী এলাকা এবং সীমান্ত সড়কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরা টহল বাড়িয়েছে।


তবে এ ব্যাপারে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল  মো মহি উদ্দিন আহমেদের সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার  যোগাযোগ করা হলে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  


এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যের উত্তর মংডু টাউনশিপে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) একটি সদর দপ্তর আরাকান আর্মি দখল করে নিয়েছে। সেই সঙ্গে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সৈন্যরা শহরে ঢুকে পড়েছে।  সদর দপ্তর পতনের সময় অন্তত ৫০ জান্তা সৈন্য আরকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কিছু জান্তা সৈন্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার ও রবিবার পৃথকভাবে এসব সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। দের সংখ্যা অন্তত ১২৪ জন।


জেবি/এসবি