সাংবাদিককে হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩
জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪:৫৭ পিএম, ৬ই আগস্ট ২০২৫

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি ও যুবদলের কর্মীদের হামলায় নয়া শতাব্দী ও দ্যা ডেইলি পোস্টের উপজেলা প্রতিনিধি সিয়াম রহমান হিমেলসহ ৫ জন আহত হয়।
মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) বিকালে ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল আহত হন। এরপর ঐদিন রাতে তিনি মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি ও যুবদলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তর করে।
গ্রেপ্তররা হলেন- মো. জাহিদ হাসান ওরফে পরাগ মুন্সিকে (৪০) ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। এছাড়া সৌরভ মুন্সী (৩৫) ও জনি মুন্সীকে (৩৬) যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল জানান, ঘটনার দিন বিকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তিতে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালির সংবাদ সংগ্রহকালে র্যালি উপজেলা সদর সুবিদখালী বাজার ব্রিজ অতিক্রম করার সময় সেজান জাকিরসহ ৭/৮ জন আমাকে হামলা করে। এসময় আমাকে বাঁচাতে কয়েকজন এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালালে আরও ৪জন আহত হয়।
তিনি আরও জানান, আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এসময় তারা পুনরায় হামলা চালানোর লক্ষ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে মহড়া দেয় আসামিরা।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. জাহিদ হাসান ওরফে পরাগ মুন্সীকে প্রধান আসামি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সৌরভ মুন্সী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য জনি মুন্সীসহ ৭জনের নাম উল্লেখসহ ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন।
সেনাবাহিনী ক্যাম্প থেকে পাঠানো প্রেস নোট সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেলকে রক্ষা করতে কয়েকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা তাদেরকেও মারধর করে। এতে সিয়ামসহ পাঁচজনকে গুরুতর ও সাধারণ বিভিন্ন মাত্রার জখম করে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং কিছু সন্ত্রাসী হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পুনরায় হামলা করার জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একত্রিত হয়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মির্জাগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল এবং মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করার জন্য মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়। উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সাংবাদিক সিয়াম রহমান হিমেল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মামলার প্রধান আসামি জাহিদ হাসান মুন্সীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।