যমুনা সেতু অবরোধে থমকে গেছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ সড়ক যোগাযোগ
জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩:১১ পিএম, ১৪ই আগস্ট ২০২৫

রেলপথ অবরোধের পর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে এবার যমুনা সেতু অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে এই অবরোধ শুরু হয়, যার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে যমুনা সেতুর দু’প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। উত্তরের ২২টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, আর বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন চালক।
জানা যায়, যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গের ২২টি জেলার ১৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। তবে অবরোধের কারণে সড়কপথে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা জানান, এ আন্দোলন চলবে যতদিন না পর্যন্ত সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করে।
এর আগে বুধবার (১৩ আগস্ট) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শিক্ষার্থীরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করে রেখেছিলেন। এতে ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গমুখী একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে এবং রেল চলাচল ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এর আগেও তারা বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বর্জনের মাধ্যমে তারা আন্দোলনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে বগুড়ার নগরবাড়ী মহাসড়কে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রতীকী অবরোধ, পথনাটক, শেকল ভাঙার গান এবং প্রতীকী ক্লাসের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়ে আসছি। এখন আর শুধু আশ্বাসে বিশ্বাস নেই। বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে কয়েকদিন ধরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বগুড়ানগরবাড়ী মহাসড়কে অবরোধ, পথ নাটক, শেকল ভাঙার গান এবং প্রতীকী ক্লাস আয়োজন করা হয়।
এসডি/