বিপৎসীমার ওপরে নদ-নদী পানি, তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম


Janobani

উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১:৫৮ এএম, ১৯শে আগস্ট ২০২৫


বিপৎসীমার ওপরে নদ-নদী পানি, তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম
সংগৃহীত ছবি।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত এক হাজার পরিবার। প্লাবিত হয়েছে চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ও চরমানাইর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।


মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে সদরপুরের ঢেউখালী ও আকোটেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নদীর পাশের ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থাপনা।


পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপরে এবং পদ্মার পানিও দ্রুত বাড়ছে। আকোটেরচরের পদ্মাপাড়ে শয়তানখালী ট্রলারঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।


চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ও চরমানাইর ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, সবজি, মরিচ ও কলার বাগানসহ হাজারো বিঘা ফসলি জমি। গ্রামীণ সড়কপথ প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।


দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির সরদার বলেন, ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সব গ্রামই পানিতে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।


চরনাছিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন মোল্যা বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম পানির নিচে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নতুন করে নির্মিত কাঁচা রাস্তাগুলোও ডুবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, “নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে স্রোত বেড়ে গেছে এবং ভাঙন তীব্র হয়েছে। জরুরি এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।”


এসডি/