যশোরে দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, “আমরা অতীতের মতো কোনো দলকানা সরকারি কর্মকর্তা দেখতে চাই না। আপনারা নির্ভয়ে রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন। রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
সভায় তিনি আরও বলেন, মানুষ শুধু সমস্যা চিহ্নিতকরণ নয়—সমাধান চায়। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তাদের দুর্ভোগের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সবার কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন।
রমজানের প্রথম দিনে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে, তবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। “রমজানের শুরুতেই মানুষের জীবিকায় আঘাত না করে বিকল্প ব্যবস্থা ভাবতে হবে,”—বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সভায় নদ-নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মুক্তেশ্বরী নদী-র জমি দখল করে প্লট করা হয়েছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের সম্পদ কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। অতীতে সরকারি দলের লোকজন অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার রাজনৈতিক দলের কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই অস্থিতিশীল হতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত যশোর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সড়ক বাতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। “এই শহর অন্ধকার রাখা যাবে না,”—বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের পারভেজ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা।
বিকেলে সদর উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্প ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এর আগে সকালে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ জন শিশুর মাঝে হুইলচেয়ার এবং ১০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করেন তিনি। একইভাবে সদর উপজেলা কার্যালয় চত্বরে ১০টি হুইলচেয়ার, ১০টি পরিবারের মাঝে ২০ বান্ডিল ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।




