কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে কার্গো জাহাজ

ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাতার প্রথমবারের মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কমপ্লেক্স থেকে শুক্রবার (৬ মার্চ) ‘লেব্রেথাহ’ নামের একটি ট্যাঙ্কার যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজের ড্রাফট লেভেল বৃদ্ধির কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে। গন্তব্য বাংলাদেশ এবং অনুমান করা হচ্ছে ১৪ মার্চের মধ্যে এটি দেশের দিকে পৌঁছাতে পারে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘আল ঘাশামিয়া’ নামের আরেকটি কার্গো জাহাজে পণ্য বোঝাই করা হয়েছিল, যা বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে। তবে চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল সীমিত থাকায় এসব চালান শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে কি না তা নিশ্চিত নয়।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রুটটি পুনরায় খোলা না হওয়া পর্যন্ত ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজ ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
এর আগে, ইরানের ড্রোন হামলার প্রেক্ষিতে কাতারের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। হামলার আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। কাতারএনার্জির কোনও মুখপাত্র এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেননি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ফোর্স ম্যাজেউর (অনিবার্য পরিস্থিতিতে চুক্তি পালন করতে অক্ষম) ঘোষণা জ্বালানি সরবরাহে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তদুপরি, বাংলাদেশের মতো এলএনজি আমদানিকারক দেশের জন্য নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখনও অনিশ্চিত।
এই প্রথম কার্গো চালানের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নজর রাখছে জাহাজের গন্তব্য ও সময়সূচি বিষয়ে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।








