ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর না হলে অর্থনীতি উন্নতি হবে না: এ কে আজাদ

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারস অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ বলেছেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নতুন সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বিজ্ঞাপন
এ কে আজাদ বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘লুকিং ইনটু বাংলাদেশ’স ডেভেলপমেন্ট: প্রাইয়োরিটি ফর দ্য নিউলি ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট ইন দ্য শর্ট টু মিডিয়াম টার্ম’ শীর্ষক রাউন্ড টেবিল বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এ কে আজাদ বলেন, বর্তমানে গড় ঋণখেলাপির হার ৩৬ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকগুলোতে এটি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি জানান, যারা টাকা নিয়েছে কিন্তু ব্যবসায় বিনিয়োগ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। “যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে না,” তিনি বলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে ব্যাংক থেকে ৩২.১৯ শতাংশ ঋণ নিচ্ছে, অথচ প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬.১ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সীমিত সরবরাহ নতুন শিল্প বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ কে আজাদ দাবি করেন, সরকারী ব্যয় কমানো, গ্যাস সংযোগের সমস্যা সমাধান এবং শিল্প-কারখানা চালু করা ছাড়া অর্থনীতি উন্নয়নশীল হবে না।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, সরকারের মোট ঋণের ৫৮ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে, যা উৎপাদনশীল খাত নয়। রাজস্ব আদায়ও লক্ষ্য অনুযায়ী হচ্ছে না; ছয় মাসে লক্ষ্য থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা কম এসেছে। এ কারণে জিডিপি ৩.৯৭ শতাংশে নেমেছে।
বিজ্ঞাপন
এ কে আজাদ সরকারকে অনুরোধ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা উচিত। তিনি বলেন, “৩০০-৫০০ এমপির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা সাধারণ মানুষ বহন করছে। যেখানে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য টাকা কম, সেখানে অতিরিক্ত ব্যয় অযৌক্তিক।”
তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর বিনিয়োগ প্রণোদনার উদাহরণ দেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সরকার বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল মেশিনারির জন্য ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা, নারী কর্মী নিয়োগ করলে পাঁচ বছরের ভর্তুকি এবং ইউটিলিটি বিলেও ছাড় দিচ্ছে। এ কে আজাদ প্রশ্ন তোলেন, “আমি ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে, গ্যাস ছাড়া, ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়ে, ডিজেল খরচ করে কীভাবে ব্যবসা চালাব?”
বিজ্ঞাপন
উপসংহারে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। শ্রমিকসংস্থান, ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স সংগ্রহ এবং শিল্প-কারখানা সচল রাখা ছাড়া অর্থনীতি উন্নয়নশীল হবে না।








