Logo

ঈদের ছুটিতেও কমেনি সবজির দাম, বাজারে ক্রেতার সংকট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন, ২০২৬, ১২:৫৭
ঈদের ছুটিতেও কমেনি সবজির দাম, বাজারে ক্রেতার সংকট
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ছুটির আবহ এখনো রাজধানীতে বিরাজ করছে। অনেকেই ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে ক্রেতা কম হলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ, মাংস ও ডিমের অনেক দোকান এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। বেশির ভাগ গরু-খাসির মাংসের দোকান বন্ধ থাকলেও খোলা থাকা মুরগির দোকানগুলোতে বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রামপুরার একটি মুরগির দোকানের বিক্রেতা জানান, ঈদের পর প্রথম দিন দোকান খুললেও বিক্রি খুব কম। অনেক পরিবার এখনো গ্রামের বাড়িতে রয়েছে। এছাড়া বাসায় কোরবানির মাংস থাকায় মুরগির চাহিদাও কমে গেছে। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন এমন থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

অন্য এক বিক্রেতার ভাষ্য, রাজধানীতে মানুষ পুরোপুরি ফিরে না আসায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম। সবাই ফিরলে বেচাকেনা স্বাভাবিক হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সবজির বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অনেক ক্রেতার অভিযোগ, কিছু সবজির দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে দেশি টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি গাজর ১৬০ টাকা, চায়না গাজর ১৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, শিম ৩২০ টাকা, শজনে ১৮০ টাকা এবং দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া উচ্ছে ও করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, হাইব্রিড পটোল ৮০ টাকা, দেশি পটোল ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৭০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মূলা ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হাইব্রিড শসা ও পেঁপে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলার হালি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লেবুর হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

সবজি ব্যবসায়ীদের মতে, পাইকারি বাজার এখনো পুরোপুরি সচল না হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারের দামে।

বিজ্ঞাপন

তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং লাল ও সাদা আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম বেশ চড়া। আকার ও ওজনভেদে ইলিশ মাছ ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া কাঁচকি ৫০০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বোয়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD