বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা স্থগিত থাকার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার আভাসে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই মূল্যবান এই ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরুর পর স্পট গোল্ডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ইতিবাচক বার্তা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায়। তেলের এই মূল্যহ্রাস বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে স্বর্ণের বাজারেও।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে জাপানের মুদ্রাবাজারে ইয়েনের মান শক্তিশালী করতে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই ডলারের দুর্বলতায় অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এতে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডস–এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেলের বাজারে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা এখনও মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে রাখছে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া এসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শ্রমবাজারের তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে অথবা ফেড নমনীয় মুদ্রানীতি অনুসরণ করলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতির ওপর আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।








