Logo

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে বাড়ছে চাপের শঙ্কা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:১০
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে বাড়ছে চাপের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও রাজধানীর বাজারে এর তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব দেখা যায়নি। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল ও আজকের বাজারদরের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের ধারণা, পরিবহন খরচের নতুন হিসাব বাজারে পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

রবিবার রাতে সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ ও মাংসের দামে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের সরাসরি প্রভাব এখনো স্পষ্ট হয়নি। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে থাকা পণ্যের বড় অংশ আগেই পরিবহনের মাধ্যমে আনা হয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি দরের কারণে বাড়তি পরিবহন ব্যয় এখনো পুরোপুরি পণ্যের দামে যুক্ত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, ‘আজ আলাদা করে দাম বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে পাইকারি বাজার থেকে আগামী দু-একদিনে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা দামও বাড়াতে হবে।’

রামপুরার এক মুদি দোকানি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়লে শুধু একবার পণ্য আনার খরচ বাড়বে না। পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়বে। তখন পণ্যের দামে সেটার প্রভাব পড়বে।’

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রাথমিক প্রভাব পড়তে পারে পণ্য পরিবহন খাতে। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর জেলা বা মোকামে নেওয়া, সেখান থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে আনা এবং পরে খুচরা দোকানে পৌঁছে দেওয়া—প্রতিটি পর্যায়েই পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব ক্ষেত্রই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়বে। এসব বাড়তি ব্যয়ের শেষ বোঝা ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য ও সেবার সরাসরি ও পরোক্ষ সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাজের হোসাইন আরও বলেন, এর আগে ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়েও বিভিন্ন সময়ে পণ্যের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা ও গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD