জ্বালানির দাম বাড়ায় রাইড শেয়ারিংয়ে আয় কমার শঙ্কা

রাজধানীতে বাইকে রাইড শেয়ার করে চার সদস্যের পরিবারের খরচ চালান রাকিব হোসেন। একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন চাকরি না পেয়ে বাইকে যাত্রী পরিবহনকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নতুন করে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রাকিবের দাবি, তেলের দাম বাড়ায় বাইক চালানোর খরচ বেড়ে যাবে। আগে যে ট্রিপ ১০০ টাকায় দেওয়া যেত, এখন সেখানে অন্তত আরও ৩০ টাকা ভাড়া নিতে হতে পারে। এতে অনেক যাত্রী আগ্রহ হারালে ট্রিপের সংখ্যা কমে গিয়ে আয়ও কমবে বলে মনে করছেন তিনি।
রাকিব হোসেন বলেন, ‘আগে একটা চাকরি করতাম। সেখানে বেশকিছু টাকা বেতন পাওনা ছিল। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল, টাকাও পেলাম না। অন্য কোথাও চাকরি না পেয়ে বাইকে যাত্রী নেওয়া শুরু করলাম। মাঝে যখন তেলের সংকট শুরু হলো তখন খুব কষ্টে দিন গেছে। আজ থেকে আবার তেলের দাম বাড়লো। যাত্রীও কম পাচ্ছি। সবারই টাকার সংকট। বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে কে যাবে বলেন! বাইক দিয়ে কয়টা টাকা আয় করে সংসার চালাতাম, এখন তাও কমে যাবে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাইক রাইডার ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষের কথা জানা যায়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে রবিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে সরকার। নতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে। এর আগে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা ছিল। অর্থাৎ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক ধাপে লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।
আরেক বাইক রাইডার মনির হোসেন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম সরকার কী বুঝে বাড়ালো? সাধারণ মানুষের কথা কেউ চিন্তা করে না। একদিকে সরকারি কর্তাদের বেতন বাড়াচ্ছে আর সাধারণ মানুষকে কষ্টে রাখছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবে না।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি গণপরিবহনের ভাড়াও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। আজম আলী নামে এক পথচারী বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লো লিটারে ২০ টাকা, আর বাসে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা চাচ্ছে। ঝামেলা করে ২৫ টাকা দিলাম, বলেন তো এটা কোনো কথা? যে যার মতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, আমরা যাবো কোথায়।’
বিজ্ঞাপন
বেসরকারি চাকরিজীবী রুমান হোসেনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘বেতন বাড়ে না, শুধু খরচ বাড়ে। এখন তো সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাবে।’
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাবে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বাড়লে দেশে মূল্যস্ফীতির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।








