কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি, কয়েক দিনের মধ্যেই কমতে পারে দাম

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল থেকেই কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করা যাবে। পাশাপাশি আমদানির ওপর বিদ্যমান করও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং কাঁচা মরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওই পরিদর্শনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালামও উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমদানির অনুমতির পাশাপাশি আমদানি শুল্কও কমানো হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীরা সহজে বিদেশ থেকে কাঁচা মরিচ আনতে পারেন। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্য দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও একই পণ্যের দাম ৪০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং বাজারে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে বাজার পরিদর্শনের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি জানান, বাজারে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মূল্য কারসাজি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরও বস্তুনিষ্ঠভাবে বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে এলে ভোক্তারা সচেতন হবেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মূল্য নিয়ে কারসাজির সুযোগ কমে যাবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শান্তিনগর কাঁচাবাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানি কার্যক্রম দ্রুত শুরু হলে বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়বে। এতে মূল্যচাপ কমবে এবং ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।








