Logo

নাগালের বাইরে ভোজ্যতেল সয়াবিন, দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১৫:৩২
নাগালের বাইরে ভোজ্যতেল সয়াবিন, দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ক্রেতাদের কষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও ডিলাররা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে সাধারণ ভোক্তা অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও লিটার প্রতি ৫–১০ টাকা বেশি নিয়ে বিক্রি হচ্ছে। সুপারশপগুলোতে দাম নির্ধারিত থাকলেও বিক্রয় সীমা বেঁধে দেওয়ায় ক্রেতারা একবারে বেশি পরিমাণ তেল কিনতে পারছেন না। এর ফলে খোলা তেলের বিক্রি বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল কেজিতে ২১০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকারি সর্বশেষ খুচরা মূল্য ছিল ১৯৫ টাকা প্রতি কেজি।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকে আগের মতো তেল সরবরাহ কম আসায় বোতলজাত তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

ডিলারদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া আগের মতো কমিশন না পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে সূত্র জানাচ্ছে, গত সপ্তাহের তুলনায় কোম্পানি থেকে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক খুচরা বিক্রেতা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেল মজুদ রেখে খোলা তেলের বিক্রি বাড়াচ্ছেন, যা থেকে তাদের বেশি লাভ হচ্ছে। সরবরাহ সংকট দেখিয়ে খোলা তেলের এই কারসাজি চলছে।

সুপারশপ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসিআই গ্রুপের ‘স্বপ্ন’ শাখায় মেঘনা গ্রুপের ‘ফ্রেশ’ ও টি কে গ্রুপের ‘পুষ্টি’ এবং সিটি গ্রুপের ‘তীর’ ব্র্যান্ডের কিছু বোতলজাত তেল বিক্রির জন্য রাখা আছে। তবে ক্রেতাদের কাছে একবারে এক বোতল বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ‘ডেইলি শপিং’-এ ২ লিটারের ‘রূপচাঁদা’ ব্র্যান্ডের তেল রয়েছে নির্ধারিত ৩৯৫ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে দেখা গেছে, কিছু দোকান সাত দিনের বেশি সময় ধরে কোনো ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল পাননি। এই পরিস্থিতিতে খোলা তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কেজিতে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকান ক্যানোলা তেল বিক্রির মাধ্যমে বিকল্প সরবরাহের চেষ্টা করছেন, যেখানে দাম লিটার প্রতি ২১০–২১৫ টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও অঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, তাই বাজার পর্যবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD